এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। তবে দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকায় আগে থেকেই নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি ওই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগেও চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় একটি লরির ধাক্কায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী বাস উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়ে আইআইইউসির ছাত্রী মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও দুই ছাত্রীসহ মোট পাঁচজন হতাহত হন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত ছাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশেষ করে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু দুর্ঘটনার পর নয়, বরং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।