বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় প্রাণহানি: ধর্ষণ, নির্যাতন ও মব সহিংসতা গভীর উদ্বেগজনক সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্য  বীমা দাবীর চেক হস্তান্তর ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত  সুনামগঞ্জ শহরের আলোচিত প্রায় অর্ধ কোটি টাকা স্বর্ণ ও ডলার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন আটক-৫ ‎ বিশ্ব পৃথিবী দিবসে শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি!  শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে লন্ডন থেকে সোহেল সরকারের তীব্র নিন্দা দোয়ারাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা কারমাইকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সিনিয়র আইনজীবী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি সংসদ সদস্য মনোনীত ইসলামপুরে নির্যাতনের শিকার সেলিম বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক!যে কোন সময় পাওয়া যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ নেত্রীর মনোনয়ন ঘোষণা, রাজশাহী থেকে মাহমুদা হাবিবা। খানসামায় মসজিদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গৃহ-বধূ সুমি দাশ চৌধুরীর আত্ম-হত্যা এখন হত্যা মামলায় পরিণত ফেঁসে গেলেন শশুর শাশুরী ও

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ১১৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় গৃহ-বধূ সুমিদাশ চৌধুরীর আত্ম-হত্যা এখন হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে? মেয়ে পক্ষের মামলায় ফেঁসে গেলেন শশুর, শাশুরী ও স্বামী? জানা যায় ঘটনাটি ঘটে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ইং তারিখ রোজ বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের ধোপাখালি এলাকায় । ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে গৃহ-বধূর শাশুরি ভারাটিয়া বাসার চাদের উপর থেকে শোকানো জামা কাপড় আনতে বিল্ডিং এর চাদে যান, সেখান থেকে রুমে এসে দেখেন পুত্র-বধূ সুমি দাশ তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে, তখন শাশুড়ী সুমি দাশকে ডাকতে শুরু করেন।

কোন উত্তর না পেয়ে দরজা খুলে দেখেন সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় কাপড় লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় সুমি দাশকে? চিৎকার চেচামেচি করে শাশুরী ও পাশের ঘরের লোকজন তাৎক্ষনিক থাকে কাপড় কেটে নামিয়ে হাসপাতালে বাঁচানোর জন্য নিয়ে আসা হলে ডাক্তার সুমি দাসকে মৃত ঘোষনা করেন, এমনটি জানা যায় সুমি দাসের শাশুড়ী ও আশপাশের মানুষের কাছ থেকে।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সুমি দাশের শশুর,স্বামীসহ আত্নীয় স্বজনেরা। স্বজনদের কান্নায় বারি হয়ে উঠে হাসপাতালের চারপাশ। কেন সবাইকে কাদিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সুমি দাশ ? এটাকি গৃহ-বধূ সুমি দাশের অভিমান ছিল? কার সাথে অভিমান করে অনার্স পড়ুয়া গৃহ-বধূ আত্ম-হত্যার পথ বেঁছে নিলেন? নাকি অন্য কিছু? এই অন্য কিছুটাই কি? এমন প্রশ্নের জন্যই সমাজে তৈরি হয় নানান প্রতিক্রিয়া। এমন ঘটনা ঘটলে কেউবা বলেন আত্ম-হত্যা, আবার অনেকে বলেন হত্যা? আর এসব প্রশ্নের উত্তর খোজঁতে কাজ করেন প্রশাসন। গৃহ-বধূ সুমি দাশের এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তেমনটি।

শশুর বাড়ির লোকদের দাবী সুমি দাশ আত্ম-হত্যা করেছেন? অন্য দিকে মৃত সুমি দাশের বাড়ির স্বজনদের দাবী গৃহ-বধূ সুমি দাশকে হত্যা করা হয়েছে? সুমি দাশের এই মৃত্যু আত্ম-হত্যা, নাকি হত্যা? শশুর, শাশুড়ী, স্বামী মিলে কেন সুমি দাশকে হত্যা করবেন? সুমি দাশের এই মৃত্যু এখন মোড় নিল অন্য দিকে? পোস্টমের্টাম রিপোর্ট আশার আগেই প্রাথমিক ভাবে আত্ম-হত্যার ধারণাকে পাল্টে দিয়ে অপমৃত্যু মামলার পরিবর্তে সুমি দাশের স্বজনদের আর্তনাথের দাবীতে ৮ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৯, তারিখ- ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬; জি আর নং-৯, ধারা- 302/34 The Penal Code, 1860;

নি*হতের নাম- সুমি দাশ চৌধুরী (২১), মামলার বাদী হলেন নিহত সুমি দাশের মা বাবলী রানী চৌধুরী (৫০)। আসামীরা হলেন মৃত সুমি দাশের স্বামী ১নং আসামী কিশাল শেখর দাস (২৪), যাকে দেখা গেছে সুমি দাশের মৃত্যুর পর হাসপাতালে সুমি সুমি করে চিৎকার করে কাদঁতে কাঁদতে দুবার হাসপাতালে অসুস্থ হতে এবং ৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের ডাকে সারা দিয়ে থানায় নিজ ইচ্ছায় ছুটে যেতে, গিয়ে সারারাত সুমি সুমি করে কাঁদতে। সে যদি হত্যা করতো তাহলে পালিয়ে গেলনা কেন ? ২নং আসামী হলেন মৃত সুমি দাশের শাশুড়ী রিপা (৫০), যিনি বলছেন আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে সুমি দাসকে বাচাঁতে চেষ্টা করেছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি কেন তার আদরের পুত্র বধূকে হত্যা করবেন? তবে মাঝে মধ্যে কিশাল দাস এবং সুমি দাস স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে শশুর শাশুরী ছেলেকেই শাসন করতেন। সুমি দাশকে তারা অনেক আদর যত্ন করতেন বলেও জানান।

৩নং আসামী হলেন সুমি দাশের শশুর কুলেন্দু শেখর দাস, যিনি হলেন মোহনা টিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, তিনি একজন সাংবাদিক সারাদিন সুনামগঞ্জ পৌর মার্কেটে তার অফিসে নিউজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে অফিসেই ছিলেন সারাদিন, ছেলের বউ আত্ম- হত্যা করেছে খবর পেয়ে বাসায় না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি সহকর্মী সকল সাংবাদিকদেরসহ থানা পুলিশকে অবগত করেন। যিনি সারাদিন বাসায় ছিলেন না থাকেও হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে?
অন্য দিকে মৃত সুমি দাশের ভাই মিল্টন চৌধুরীর দাবী করেন তার বোন সুমি দাশকে হত্যা করেছে শশুর বাড়ীর লোকেরা। তিনি বলেন ১ বছরও হয়নি সুমি এবং কিশাল একজন আরেকজনকে পছন্দ করে বিয়ে হয়েছে। বিবাহের পর প্রায় সময় সুমি দাশের স্বামী কিশাল শেখর সুমিকে মারধর করতো? তিনি আরও বলেন গত কয়েক মাস আগে মারধরের কারনে সুমি দাশকে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং নবীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা করান, গত দুই মাস আগে মিল্টন চৌধুরীর বাড়িতে সুমির শশুর,শাশুড়ী সুমিকে আনতে নবীগঞ্জ দত্ত গ্রামে যান সুমির শশুরও শাশুড়ী, বুঝিয়ে সুঝিয়ে সুনামগঞ্জ শশুর বাড়িতে নিয়ে আসেন। মিল্টন আরও বলেন দুই মাস যেতে না যেতেই ৭ ডিসেম্বর সুমির শশুর আমাদের ফোন করে জানান সুমি আত্ম-হত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে আমার বোন সুমি দাশের মরাদেহ দেখতে পাই এবং ময়না তদন্ত শেষে ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করি, আমার বোন সুমি দাশের মরাদেহ আমাদের নিজ বাড়ি নবীগঞ্জের দত্ত গ্রামে এনে সুমির মরাদেহ চিতায় না দিয়ে তার লাশ সমাধী করা হয়। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
এব্যপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মৃত্যুর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মেয়ে পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে, মৃতের স্বামী অভিযুক্ত কিশালকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পোস্টমের্টম রিপোর্ট আসলেই মৃত সুমি দাশের মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর