শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জনগণের দেওয়া কথা রেখেছেন ডিসি সায়েমুজ্জামান: পঞ্চগড়ে রেকর্ড ভোট ও মব সামলানোর নেপথ্য গল্প শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের রাশেদ ও শেরপুর-২ আসনে বিএনপির ফাহিম বিজয়ী পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদের জয়: তৃণমূলের নেতার ওপর জনগণের আস্থা বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে দলটি রুমার ১৯টি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিনের ভোট প্রদান ‎ চট্টগ্রাম-৯ আসনে জনরায় স্পষ্ট: ভবিষ্যৎ এমপি আবু সুফিয়ান অগ্রিম বিজয়ী অভিনন্দন: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে;

জনগণের দেওয়া কথা রেখেছেন ডিসি সায়েমুজ্জামান: পঞ্চগড়ে রেকর্ড ভোট ও মব সামলানোর নেপথ্য গল্প

তরিকুল ইসলাম, সহকারী বার্তা সম্পাদক / ৩২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কাজী সায়েমুজ্জামান

​তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
​জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ ভোট প্রদানের রেকর্ড গড়েছে সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং অফিসার কাজী সায়েমুজ্জামান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নির্বাচনের নেপথ্য কর্মযজ্ঞ, সীমাবদ্ধতা এবং আগামীর স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

​নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অনেকটা স্বেচ্ছায় ফেসবুক থেকে দূরে ছিলেন এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, “আমার কথা বা আচরণে যাতে মনের অজান্তে হলেও পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ না পায়, সে কারণেই নিজেকে আড়ালে রেখেছিলাম। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কথা কম বলার বিকল্প নেই।”

​পঞ্চগড়ের নির্বাচনী আমেজকে ‘মেলার’ সাথে তুলনা করে জেলা প্রশাসক জানান, এবারের নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে ৭৭.৪১ শতাংশ এবং পঞ্চগড়-২ আসনে ৭৭.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলা প্রশাসকের মতে, এটি সম্ভবত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট প্রদানের হার। মানুষ সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে গেছে এবং নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি তাকে আপ্লুত করেছে।

​নির্বাচনের পরিবেশ অশান্ত করার নানা চেষ্টা বা ‘মব’ সামলানো ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে মাওলানা রুমির উক্তি টেনে তিনি লিখেন, “মব মোকাবেলায় আমি ভালোবাসাকে বেছে নিয়েছিলাম। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় এসব পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি, একটি লাঠিচার্জেরও প্রয়োজন পড়েনি।”

​উন্নয়নের নকশা ও আগামীর ভাবনা:

​অত্যন্ত অল্প সময়ে দায়িত্ব পালনকালে পঞ্চগড়ের পিছিয়ে পড়া জনপদ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন কাজী সায়েমুজ্জামান। জেলার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন:
​বিকল্প সেতু: করতোয়া নদীর ওপর বিকল্প সেতুর ডিপিপি (DPP) তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।
​শহর উন্নয়ন: ড্রেনের কাজ সমাপ্তি, ডাস্টবিন স্থাপন এবং নদীর পাড়ে পার্কের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ।
​সেবা ও চিকিৎসা: প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরণ, দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় প্রায় ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা এবং চিকিৎসক সংকট নিরসনে উদ্যোগ।
​পরিবহন খরচ হ্রাস: সার আমদানির রুট যশোর থেকে কমিয়ে সিরাজগঞ্জের নগরবাড়িতে স্থানান্তর।

​টানা নির্ঘুম রাত এবং কর্মব্যস্ততার পর সফল নির্বাচনের তৃপ্তি নিয়ে তিনি লিখেছেন, “সিনিয়র স্যারেরা পঞ্চগড় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কিন্তু সফলতার পর তারা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। আমি কথা রাখতে পেরেছি। এই আত্মতুষ্টি নিয়েই আমি নিজের কাছে বাঁচি। বহু যুদ্ধের পর আমারই জয় হয়েছে।”
​নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে পঞ্চগড়বাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর