মুয়াজ্জিনের ছেলের সাফল্য: নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তা খাইরুল বাশার
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর পরিবারের অক্লান্ত ত্যাগ—এই তিনের সমন্বয়ে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃতী সন্তান খাইরুল বাশার। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি বর্তমানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), পেট্রোবাংলা-এর সহকারী কর্মকর্তা (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
খাইরুল বাশারের জন্ম ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৮। তাঁর বাবা হাবিবুর রহমান ঢাকার গুলশানের বাশতলা জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মা রাশিদা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেঝো।
তাঁদের গ্রামের বাড়ি বালাশ্বর, ডাকঘর তেলীগ্রাম, ৪ নম্বর বালিয়ান ইউনিয়ন, ফুলবাড়িয়া উপজেলা, ময়মনসিংহ জেলা।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ২০১৩ সালে তেলীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে ফুলবাড়িয়া কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে অনার্সে ৩.৫০ এবং মাস্টার্সে ৩.৬৭ সিজিপিএ অর্জন করেন।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা কখনোই তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারের সংগ্রামকে শক্তিতে পরিণত করে নিরলস অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি আজ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন।
চাকরিজীবনে প্রবেশের আগেই তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। পেট্রোবাংলার নিয়োগ পরীক্ষায় পোস্টাল মেধাক্রমে ২য় এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৭ম স্থান অর্জন করে তিনি নিজের যোগ্যতার উজ্জ্বল প্রমাণ দিয়েছেন।
খাইরুল বাশারের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, ফুলবাড়িয়া তথা সমগ্র ময়মনসিংহের মানুষের জন্য গর্বের। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে—সততা, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সীমিত সামর্থ্য কখনোই বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। একই সঙ্গে তাঁর সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।