বিলাল হোসাইন :
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ ও প্রশ্ন বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা জরুরি।
অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা খণ্ডন করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন কোনোভাবেই জবাবদিহির পথে বাধা না হয়।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ। তাই মির্জা আব্বাসের সম্পদ, আয়, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন কিংবা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান যদি সত্যিই নীতিগত হয়, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে একই মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্য দলের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তের দাবি করা হবে, অথচ নিজেদের দলের নেতার ক্ষেত্রে নীরবতা—এমন দ্বৈতনীতি জনগণ আর দেখতে চায় না।
মির্জা আব্বাস বড় নেতা বলেই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নন; বরং পদ যত বড়, জবাবদিহিও তত বেশি হওয়া উচিত।
তাই রাজনৈতিক বিতর্ক নয়—তথ্য, নথি ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যটা সামনে আসুক। অভিযোগ সত্য হলে দায় নির্ধারণ হোক, আর মিথ্যা হলে অভিযোগকারীদের মুখোশও উন্মোচিত হোক।
জনগণ কোনো রাজনৈতিক পক্ষের গল্প নয়, সত্য জানতে চায়। মির্জা আব্বাসকে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃত সত্য তাই প্রকাশ্যে আসা জরুরি।