জ্বালানিতে কারচুপি, লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠান: ঝিনাইগাতীতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
মিজানুর রহমান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জ্বালানিতে কম পরিমাণ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা এবং লাইসেন্সবিহীন বেকারি পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও চায়না দোয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিএসটিআই প্রতিনিধি ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত এ মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা রানী ভৌমিক।
অভিযানে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে বিএসটিআই লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স, অনাপত্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় আবশ্যিক কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফুয়েল ডিসপেনসারের মাধ্যমে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ৯৩০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১০ লিটার পেট্রোলে ৮৯০ মিলিলিটার কম সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ২৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৪৬ ধারায় বিএসটিআই ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ছানোয়ার হোসেন-এর দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে অবকাশ এন্টারপ্রাইজে বিএসটিআই লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স ও অনাপত্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ার পাশাপাশি ফুয়েল ডিসপেনসারের মাধ্যমে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ২১০ মিলিলিটার, পেট্রোলে ৫৪০ মিলিলিটার এবং ডিজেলে ৩৫০ মিলিলিটার কম জ্বালানি সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। একই আইনে প্রতিষ্ঠানটিকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে ফুলকলি বেকারিতে সিএম লাইসেন্স ছাড়াই চিপস, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণের অপরাধে বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিএসটিআই ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার ও প্রসিকিউটর রাহাত আহমেদ-এর দাখিলকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট এ আদেশ প্রদান করেন।
এদিকে মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নে পরিচালিত পৃথক অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ২ হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না দোয়ারি জাল জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে বিনষ্ট করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আল-আমীন বলেন, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ, সঠিক পরিমাপে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।