ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলে হতাশা, ঐতিহ্য ফেরাতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
মিজানুর রহমান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম একদিনে তৈরি হয় না। বছরের পর বছর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে একটি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য। তাই দীর্ঘদিনের সেই গৌরব ও সুনাম ধরে রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কোনো কারণে তা ব্যাহত হলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের সাধারণ শাখায় মোট ১২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখায় মোট ২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ জন। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কেউই নেই।
এমন ফলাফল বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সুনামের বিবেচনায় অনেকের কাছেই হতাশাজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে এ পরিস্থিতিতে কাউকে এককভাবে দোষারোপ না করে ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল—সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বৃদ্ধি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়কে ঘিরে প্রত্যাশা—আবারও যেন বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে, শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসে মনোযোগী শিক্ষার্থীরা এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে থাকে বই-খাতা ও ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় আবারও তার পুরোনো সুনাম, ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরে পাবে।