বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চুয়েট-কুয়েটে সুযোগ পেয়েও বেছে নেন ভেটেরিনারি পেশা, ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে ৪৪তম বিসিএস ভেটেরিনারি সার্জন ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ পিকনিক স্পটে বিভাগীয় কমিশনারকে শেরপুর জেলা প্রশাসকের ফুলেল শুভেচ্ছা বিন মিশাল গ্লোবাল কোম্পানির ৪র্থ বর্ষপূর্তি উদযাপন। আমাশু প্রগতি হাই স্কুল এন্ড কলেজের এডহক কমিটি অনুমোদন: সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন তাহিরপুরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সাত্তার নামে এক মাদক কারবারি আটক। সুনামগঞ্জে আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের সমাপনী সভা। ছাতকে ২০ মাসের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে ছাতকের কামরাঙ্গীতে জমজমাট গ্রামীণ খেলা হাডুডু পাঠাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সুবাস মিয়া,জনসেবায় নতুন প্রত্যয়ের ঘোষণা রাজনীতিতে হাসনাত হইলো এনসিপির গ্যাংস্টার।

চুয়েট-কুয়েটে সুযোগ পেয়েও বেছে নেন ভেটেরিনারি পেশা, ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে ৪৪তম বিসিএস ভেটেরিনারি সার্জন

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন : / ২১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

চুয়েট-কুয়েটে সুযোগ পেয়েও বেছে নেন ভেটেরিনারি পেশা, ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে ৪৪তম বিসিএস ভেটেরিনারি সার্জন

মিজানুর রহমান,বিশেষ প্রতিবেদন:
মেধা, পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর নিজের স্বপ্নের প্রতি অটুট বিশ্বাস—এই চারটি শক্তিকে সঙ্গী করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছেন পটুয়াখালীর বাউফলের কৃতী সন্তান মো. মিরাজ হোসেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে যে সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে ৪৪তম বিসিএসের প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে। বর্তমানে তিনি ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বাউফলের বাংলাবাজার থেকে সাফল্যের শিখরে
১৯৯৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলার বাউফল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মো. মিরাজ হোসেন। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু নাজিরপুর বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে তিনি জেনারেল বৃত্তি লাভ করেন। এরপর বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং অষ্টম শ্রেণিতেও অর্জন করেন জেনারেল বৃত্তি।
২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯৪ এবং ২০১০ সালে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ অর্জন করেন তিনি।
চুয়েট-কুয়েটে সুযোগ, তবুও স্বপ্ন ছিল প্রাণিসম্পদ খাতে
২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে ভর্তি হন মিরাজ হোসেন। একই সময়ে চুয়েট ও কুয়েটেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে অবদান রাখার স্বপ্ন এবং প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বেছে নেন ডিভিএম (Doctor of Veterinary Medicine) শিক্ষা। পরবর্তীতে মাইক্রোবায়োলজিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
চাকরিজীবনেও একের পর এক সাফল্য
এমএসসি অধ্যয়নকালেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এনএটিপি-২ প্রকল্পে যোগ দেন মিরাজ হোসেন। সেখানে প্রায় ৩ বছর ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর ২০১৬ সালভিত্তিক ব্যাংক নিয়োগে জনতা ব্যাংকে অফিসার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে যোগদান করেন। ব্যাংকটিতে প্রায় ৪ বছর ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে আরও বড় পরিসরে কাজ করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে যান। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে অবশেষে ৪৪তম বিসিএসে প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি।
বর্তমানে তিনি ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন।
মিরাজ হোসেনের জীবনযাত্রা যেন সাফল্যের একটি ধারাবাহিক গল্প—প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি, মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসিতে কৃতিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চাকরি, জনতা ব্যাংকে অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সর্বশেষ ৪৪তম বিসিএসে প্রাণিসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তি।
তাঁর এই পথচলা প্রমাণ করে, জীবনে সুযোগ একাধিক দরজায় কড়া নাড়লেও নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্যকে সঠিকভাবে বেছে নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করতে পারলে সাফল্য একদিন ধরা দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর