মোঃ সুজন আহাম্মেদ বিভাগীয় চিফ রাজশাহীঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আলোচিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় জামিন পেতে আদালতে জাল প্রত্যয়নপত্র দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির সক্রিয় কর্মী দাবি করে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে দুটি প্রত্যয়নপত্র দাখিল করা হয়। এসব প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে গত ১২ আগস্ট রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।
তবে জামিনের পর প্রত্যয়নপত্র দুটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রত্যয়নপত্রে থাকা স্বাক্ষর ও সিল নিজের নয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা। অন্য প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষরকারী নেতা স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করলেও এখন সেটিকে ‘ভুল’ বলে দাবি করছেন।
আদালতে দাখিল করা একটি প্রত্যয়নপত্রে গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। তবে আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয়। তাঁর দাবি, প্রত্যয়নপত্রটি জাল।
অন্য প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছেন গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হানিফ আলী। তিনি স্বাক্ষর করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবেশী হওয়ায় আবুল কালামের স্ত্রীর অনুরোধে তিনি ওই প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি এটিকে ভুল হয়েছে বলে দাবি করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে হেরোইন কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল বলেও জানা গেছে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে ছিলেন আবুল কালাম। গত ২০ জুলাই তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে শুধু আদালতে দাখিল করা প্রত্যয়নপত্র নয়, আবুল কালামের বিএনপির কর্মী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিরাপত্তা চেয়ে দেওয়া একটি আবেদনে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ওই আবেদনে গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হওয়ার দাবিও করেন আবুল কালাম।
তবে গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের আহ্বায়ক জানিয়েছেন, তাঁরা আবুল কালামকে বিএনপির কর্মী হিসেবে চেনেন না। স্থানীয় কয়েকজন নেতাও তাঁকে মাদক কারবারি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যয়নপত্রের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আবুল কালামকে পুনরায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিঞা বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কোনো অপরাধে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।