মোঃ সেলিম উদ্দীন, ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় চিরন্তন সত্য; কিন্তু সেই ফলাফলকে পরিপক্বতার সঙ্গে গ্রহণ করাই রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকৃত মানদণ্ড।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান–এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। নির্বাচনের পর সরকার ও বিরোধী দলের এমন উন্মুক্ত ও আন্তরিক যোগাযোগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায়নি। এটি কেবল শিষ্টাচার নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
গণতন্ত্র তখনই পরিপূর্ণতা পায়, যখন সরকার উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে এগিয়ে যায় এবং বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। যদি জামায়াতে ইসলামী সংসদে একটি দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও জনমুখী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে সংসদ কার্যক্রম হবে আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। একই সঙ্গে সরকারও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো হবে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই।
বাংলাদেশ আজ এক পরিবর্তনমুখী সময় অতিক্রম করছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন, বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র মানে কেবল নির্বাচন নয়; বরং ন্যায়, অংশগ্রহণ ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা। একটি কার্যকর সংসদ, যেখানে মতের ভিন্নতা থাকবে কিন্তু লক্ষ্য হবে জাতির অগ্রগতি—সেই পরিবেশই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
রাজনীতির ভাষা যদি হয় সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গণমানুষের কল্যাণ, তবে নতুন সংসদ সত্যিই নজিরবিহীন হয়ে উঠতে পারে। সরকার ও বিরোধী দলের এই সৌজন্যমূলক সূচনা যদি ধারাবাহিকতা পায়, তবে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক ইতিবাচক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য দ্বন্দ্বে নয়, ভারসাম্যে। আর সেই ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বশীল সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দল—উভয়ই সমান অপরিহার্য।