ধামইরহাটে ছাগল বিতরণে ওজন জালিয়াতি: হট্টগোলের মুখে বিতরণ স্থগিত
বুলবুল আহমেদ বুলু
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছাগল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও ওজন জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের ওজন অন্তত ৮ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে ৪ থেকে ৬ কেজি ওজনের রুগ্ন ছাগল। এ নিয়ে উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হট্টগোল সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয় ।উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
জানা গেছে, সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে উন্নত জাতের ছাগল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ছাগলের ওজন সর্বনিম্ন ৮ কেজি নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু বিতরণের শুরুতেই দেখা যায়, সরবরাহকৃত বেশিরভাগ ছাগলই ওজনে অনেক কম। কোনোটির ওজন ৫ কেজি, আবার কোনোটি ৪ থেকে ৬ কেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের উন্নত জাতের স্বাস্থ্যবান ছাগল দেওয়ার কথা বলে ছোট ছোট ছাগলের বাচ্চা দেওয়া হচ্ছে। ৮ কেজির জায়গায় ৫-৬ কেজির ছাগল দিয়ে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।”
বিতরণস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ ছাগলগুলোর ওজন মাপতে বাধ্য হন। ওজন জালিয়াতির প্রমাণ হাতেনাতে পাওয়ায় উপস্থিত জনতার মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিপা রানী জানান, “আজ মোট ৪০ জনকে ছাগল দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সকাল থেকে ২৬ জনকে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বাকি ১৪ জনের ক্ষেত্রে ছাগলের ওজন কম থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। ওজনে এই গড়মিলের কারণে আজকের মতো বিতরণ ও যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।”
বুলবুল আহম্মেদ বুলু
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ