সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র নিলাদ্রী লেক সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, মাদক বিক্রি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ আঃ অদুদ। তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগকারী হিসেবে লাকমা গ্রামের মৃত রমিজ আলীর ছেলে “আনফর আলী” নামে যে ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে, বাস্তবে ওই নামে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ব্যক্তি নেই।
গত রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায়“নিলাদ্রী লেকের খাস জমিতে অবৈধ স্থাপনা, মাদক বিক্রির অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে নিলাদ্রী লেকের কোয়ারীর পাড়ে সরকারি খাস জমিতে স্থাপনা নির্মাণ, পর্যটকবাহী হাউসবোটে বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক বিক্রি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে মোঃ আঃ অদুদ বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কাল্পনিক একটি নাম ব্যবহার করে বেনামি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। অভিযোগকারী হিসেবে যে আনফর আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, ওই নামে এলাকায় কোনো ব্যক্তি নেই।
তিনি বলেন, সংবাদে তার নাম সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে যাওয়ায় তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসায়িক সুনাম ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মাদক বিক্রি, অসামাজিক কার্যকলাপ কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
মোঃ আঃ অদুদের দাবি, নিলাদ্রী লেক সংলগ্ন ওই জায়গা নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছু ব্যক্তির পূর্ববিরোধ রয়েছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, সেই বিরোধের জের ধরে কোনো পক্ষ কাল্পনিক পরিচয় ব্যবহার করে বেনামি অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জমি ও স্থাপনার মালিকানা প্রসঙ্গে মোঃ আঃ অদুদ বলেন, তিনি তার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে কোনো অংশ সরকারি খাস জমির মধ্যে পড়েছে কি না, তা সরকারি নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে। তদন্তে কোনো অংশ সরকারি খাস জমির মধ্যে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তার অভিযোগ, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি এবং অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা ব্যক্তির পরিচয়ও যাচাই করা হয়নি। ফলে একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মোঃ আঃ অদুদ বলেন, “আমি চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগকারী হিসেবে যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার অস্তিত্ব ও পরিচয় যাচাই করা হোক। পাশাপাশি জমির মালিকানা ও স্থাপনার বৈধতার বিষয়টিও সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হোক।”
তিনি প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তার প্রতিবাদ ও বক্তব্য যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশের পাশাপাশি অভিযোগের উৎস, অভিযোগকারীর পরিচয় এবং জমির প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা, অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখিত ব্যক্তির পরিচয় এবং জমির মালিকানা—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নথি, সরেজমিন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।