বাংলা সাহিত্যে উদীয়মান তরুণ কবি মোহাম্মদ রাসেল হাসান
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে নিজের লেখনী ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে চলেছেন উদীয়মান তরুণ লেখক ও কবি মোহাম্মদ রাসেল হাসান। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তাঁর লেখালেখির পথচলা শুরু। মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘ছোট্ট একটি দেশ’ কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
মোহাম্মদ রাসেল হাসান ১৯৯৭ সালের ১০ ডিসেম্বর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় তাঁর মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে তাঁর লেখা ‘ঈদ উৎসব’ কবিতাটি পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর লেখা বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হতে থাকে। লেখালেখির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইতোমধ্যে বাংলা সাহিত্যে একাধিক সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
২০২১ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে পদ্মা পল্লীর সাহিত্য পরিষদ থেকে সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
২০২২ সালে মাসিক চিরকুটের বিশেষ আয়োজনে অর্জন করেন ‘স্বপ্ন ছোঁয়া সাহিত্য পদক’ ও সাহিত্য সম্মাননা সনদ। একই বছর কবি গোলাম মোস্তফার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি লাভ করেন ‘কবি গোলাম মোস্তফা সাহিত্য পদক’। পাশাপাশি সিলেট কবি সংঘ থেকে অর্জন করেন ‘তারুণ্য কবি সম্মাননা পদক’।
২০২৩ সালে ‘হৃদয়ের কাব্য কথা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য শুভেচ্ছা স্মারক পুরস্কার অর্জন করেন এই তরুণ কবি। সর্বশেষ ২০২৬ সালে রংধনু সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ থেকে সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
মোহাম্মদ রাসেল হাসানের সাহিত্যকর্মের মধ্যে যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘স্বপ্ন বিলাসী’, ‘প্রকৃতি’ ও ‘হৃদয়ের কাব্য কথা’ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তাঁর একক কাব্যগ্রন্থ ‘হলদে পরীর দেশে’ পাঠকমহলে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
তরুণ এই কবির লেখায় দেশ, প্রকৃতি, মানুষ, ভালোবাসা ও জীবনের নানা অনুভূতি উঠে আসে। সাহিত্যচর্চাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান আরও বহুদূর। তাঁর প্রত্যাশা—সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এবং ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বাংলা সাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা।
সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশা সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকমহলের।