শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
📚 আইন পেশায় আসার আগে যে চারটি মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে: অন্ধকার ঘরে ১০ বছর ধরে শয্যাশায়ী ঝমেলা, স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন:চিকিৎসা ও বিদ্যুৎহীনতায় মানবেতর দিন কাটছে বৃদ্ধার স্ত্রী প্রবাসে যাওয়ার পর সন্তানসহ বাবার বিষপান, ৩ শিশুর মৃত্যু। আধুনিক নলকুড়া গড়ার প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হামেজ উদ্দীন হাবিব বিএ অনার্স ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেল লন্ডনে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জমকালো আয়োজনে ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের জন্মদিন পালন। গোদাগাড়ীতে প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ শনিবার সিংগাবরুনা ইউনিয়নে উন্নয়ন, সেবা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার চেয়ারম্যানপ্রার্থী মাসুদ রানার তাড়াশে নতুন এসিল্যান্ড সাইফুল ইসলাম সাইফকে ঘিরে তাড়াশবাসীর নতুন প্রত্যাশা পাঠাকাটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেন মিন্টুর উন্নয়ন পরিকল্পনা

অন্ধকার ঘরে ১০ বছর ধরে শয্যাশায়ী ঝমেলা, স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন:চিকিৎসা ও বিদ্যুৎহীনতায় মানবেতর দিন কাটছে বৃদ্ধার

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ৩২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

অন্ধকার ঘরে ১০ বছর ধরে শয্যাশায়ী ঝমেলা

স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃসঙ্গ জীবন, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎহীনতায় মানবেতর দিন কাটছে বৃদ্ধার

 

মিজানুর রহমান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ৭০ বছরের বেশি বয়সী বৃদ্ধা ঝমেলা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দারিদ্র্য, অসুস্থতা, একাকীত্ব আর নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তিনি। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শয্যাশায়ী এই বৃদ্ধার দিন কাটছে চরম কষ্ট ও দুর্ভোগের মধ্যে। বিদ্যুৎহীন অন্ধকার ঘরে পড়ে থেকে যেন নীরবে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সময়ের।

কোমর থেকে নিচের অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় নিজের পায়ে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, বিছানা থেকে ওঠা বা বসার সামর্থ্যও নেই ঝমেলার। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কোনো কাজই তিনি নিজের মতো করে করতে পারেন না। এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার কাজও করতে হয় বিছানায় শুয়েই। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে দিন দিন আরও দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি আগে স্বামীকে হারিয়েছেন ঝমেলা। তার একমাত্র ছেলে জীবিত থাকলেও মায়ের তেমন খোঁজখবর নেন না বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন তার একমাত্র মেয়েও। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা নিঃসঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় জীবন কাটছে তার।

অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে একসময় নিজের ভিটার মাটিও বিক্রি করতে হয়েছে ঝমেলাকে। জীবনের শেষ সম্বলটুকু চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেও সুস্থতা ফিরে পাননি তিনি। বর্তমানে অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা কিংবা চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্যও নেই তার।

শুধু চিকিৎসার অভাব নয়, মৌলিক জীবনযাপনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত এই বৃদ্ধা। তার ঘরে এখনো বিদ্যুতের সংযোগ নেই। ফলে অন্ধকার ঘরেই দিন-রাত কষ্টে পার করতে হয় তাকে। অসুস্থ শরীর নিয়ে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাভাবিক পরিবেশে থাকার সুযোগটুকুও নেই তার।

ঝমেলা একসময় জুসনা নামে একটি মেয়েকে নাতনি হিসেবে লালন-পালন করেছিলেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় জুসনার বিয়ে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিবারও আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং অন্যের বাড়িতে বসবাস করছে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও নিয়মিতভাবে বৃদ্ধার দেখাশোনা করা তাদের পক্ষেও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে ঝমেলার খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে চিকিৎসা, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় থাকলেও তিনি কোনো সরকারি ভাতা বা নিয়মিত সরকারি সহায়তা পান না।

জীবনের শেষ সময়ে ঝমেলার চাওয়া খুব বেশি নয়—একটু চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, নিয়মিত দেখাশোনা এবং নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ব্যবস্থা। তার কণ্ঠে হয়তো বড় কোনো দাবি নেই, কিন্তু অসহায় এই বৃদ্ধার জীবনযুদ্ধই যেন সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষ মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে এলে ঝমেলার জীবনের শেষ দিনগুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারে। অন্তত অন্ধকার ঘরের এই অসহায় বৃদ্ধার জীবনে শেষ বয়সে একটু আলো ফিরুক—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর