শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানালেন ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরদার কারিমুল ইসলাম শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে মাঠে জামালপুর ৩৫ বিজিবির ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, মন্ডপ পরিদর্শন! আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস: সভ্যতার মূল কারিগরদের অবদানের স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন দুর্গাপূজায় কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩৫৭ মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার-প্রস্তুত এসআরবি-১৫ তাহিরপুরে মাটিকাটা স্টিল ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ ইউএনও মিজ্ রিপামনি দেবীর। রাউজান বিদ্যােৎসাহী স্পোর্টিং ক্লাবের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জীবন, সচিব ওসমান গণী পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে চাপাতি দিয়ে জখম মামলার আসামি মিরাজসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬ বকশীগঞ্জে আলো স্বেচ্ছাসেবী রক্তদান সংগঠনের কলেজ শাখা’র আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন। বুড়িচংয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ২ জন আহত পুলিশ পরিদর্শক  শাহ আলমকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তাহিরপুরে আটক নাসির বিড়ি’র হদিস মিলছে না, প্রশ্নের মুখে মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ।

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৭৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আটক করা প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির বিড়ির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আটক করা এসব বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ, তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযুক্ত আল আমিন হুদা উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কামড়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগের বিষয়ে রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আল আমিন হুদা দাবি করেন, ভারতীয় নাসির বিড়ি বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আটক করা বিড়িগুলো যাচাই-বাছাই করে মাদকদ্রব্য নয় বলে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিএনপির সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন। তবে ওই পোস্টে তিনি বিড়ির প্রকৃত মালিকের নাম প্রকাশ করেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাদাঘাট এলাকার কুকুরকান্দি থেকে চার কার্টন ভারতীয় নাসির বিড়ি আটক করে উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ, তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার নেতৃত্বাধীন একটি দল।
অভিযোগ রয়েছে, বিড়িগুলো আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আটক করা বিড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ বিশ হাজার টাকা। এসব বিড়ির মালিক ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলে দাবি করা হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সুমন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন, অবৈধ নাসির বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে যদি পুনরায় মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রমাণ কী—এমন প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর মন্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, চার কার্টন নাসির বিড়ি আটকের পর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি মাদক নির্মূল কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আল আমিন হুদা তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আটক করা বিড়িগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর সরাসরি মাদকদ্রব্য নয় বলে জানতে পারেন। পরে সেগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আটক করা ভারতীয় নাসির বিড়ির উৎস, বৈধতা, প্রকৃত মালিকানা এবং কীভাবে তা পুনরায় মালিকের কাছে পৌঁছেছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্তমানে আটক করা বিড়িগুলো কোথায় রয়েছে এবং প্রকৃত মালিক কে, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, তিনি একটি মাদক মামলার আসামি হওয়ায় বাজার-হাটে তেমন যান না। আল আমিন হুদা তাঁকে বাদাঘাট বাজারে গিয়ে দেখা করতে বলেছিলেন। তবে সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে আল আমিন হুদাসহ তাঁর নেতৃত্বাধীন দল চার খাঁচা ভারতীয় নাসির বিড়ি ও একটি কাঠের নৌকা নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিড়ির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ বিশ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, ভারতীয় ‘নাসির বিড়ি’ সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ। মাদক নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এসব বিড়ি আটক করা হয়ে থাকলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।
ওসি আরও বলেন, আটক করা কোনো পণ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আটক করা পণ্য অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার কোনো সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর