বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম মনে হয় কোনো সরকার, বিরোধীদলের কাছে সমাধান চাইলো
বার্তা সম্পাদক
/ ১৫
বার দেখা হয়েছে
আপডেট :
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
শেয়ার করুন
আব্দুল কাদের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
রাজনীতিতে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না, সরকার বলছে, বিরোধীদল যদি ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারে, সরকার তা গ্রহণ করবে।
চ্যালেঞ্জটা ছোড়া হয়েছিলো বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, চ্যালেঞ্জের জবাব দেওয়ার আগেই সমাধানের খসড়া টেবিলে!
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জ্বালানি সংকটকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে আটকে রাখেননি, তিনি সমস্যার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি তিন স্তরে সমাধানের রূপরেখা দিয়েছেন।
প্রথমেই বসুন্ধরাকে জ্বালানি খাত দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল, আন্তর্জাতিক দরপত্রের সময়সীমা ১০ দিন থেকে ৪২ দিনে ফিরিয়ে আনা, সেপ্টেম্বর–ডিসেম্বরের জ্বালানি ক্রয় শিডিউল অনুমোদন, মহেশখালী দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং গ্যাস বরাদ্দে ডেটাভিত্তিক অগ্রাধিকার সূচক চালুএসবকে তিনি দেখিয়েছেন জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে।
এরপর ৬ মাস থেকে দেড় বছরের পরিকল্পনা।যেখানে বিপিসির একচেটিয়া ব্যবস্থা ভেঙে উন্মুক্ত দরপত্র, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, পরিশোধিত তেলের বদলে অপরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ, ক্যাপাসিটি চার্জের পূর্ণ অডিট, আইপিপির বকেয়া নিষ্পত্তি, বিতরণ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের সিস্টেম লস কমাতে স্মার্ট মিটার চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এমনকি এলপিজির বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম আনার কথাও বলা হয়েছে।
আর দীর্ঘমেয়াদে শুধু আজকের সংকট সামলানো নয় আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তার কথাও বলা হয়েছে।
এলএনজি টার্মিনাল, সমুদ্রে আন্তর্জাতিক মানের গ্যাস অনুসন্ধান, দক্ষ ট্রেড নেগোসিয়েটর নিয়োগ, বাপেক্সে বিনিয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসার সব মিলিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সামনে আনার প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থাৎ, বিরোধীদলকে যখন বলা হলো, সমাধান দিতে পারলে দিন, তখন উত্তরটা শুধু বক্তৃতায় নয়, পয়েন্ট ধরে ধরে পরিকল্পনায় দেওয়া হলো।
এখন প্রশ্নটা তাই আর বিরোধীদলের দিকে নয়।
প্রশ্নটা সরকারের দিকে, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন, সমাধানও তো এসে গেছে। এবার বাস্তবায়ন করবেন তো
জনগণ আর রাজনৈতিক তর্ক শুনতে চায় না।
তারা চায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী সরবরাহ।
তাই এবার কথা কম, কাজ বেশি হোক।
নাহিদ ইসলামদের পরিকল্পনা যদি কার্যকর মনে হয়, নিন, যাচাই করুন, প্রয়োজন হলে সংশোধন করুন, তারপর বাস্তবায়ন করুন।
কারণ সংকট কার আমলে শুরু হয়েছে, এই হিসাব জনগণের বিদ্যুৎ বিল কমায় না।জনগণ দেখতে চায়, সংকটটা কে সমাধান করতে পারলো।
আর সরকার যদি সত্যিই মন থেকে চেয়ে থাকে, ভালো পরিকল্পনা দিলে আমরা গ্রহণ করবো,
তাহলেএই নিন পরিকল্পনা।
এবার সিদ্ধান্ত আপনাদের।