বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
প্রথম বিসিএসেই স্বপ্নপূরণ—প্রাইমারি ও নিবন্ধনে ব্যর্থতার গ্লানি পেরিয়ে ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ইসমাইল হোসেন হৃদয়ের সাফল্য প্রথম বিসিএসেই স্বপ্নপূরণ—প্রাইমারি ও নিবন্ধনে ব্যর্থতার গ্লানি পেরিয়ে ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ইসমাইল হোসেন হৃদয়ের সাফল্য প্রাইভেট চাকরি থেকে প্রশাসন ক্যাডারে স্বপ্নপূরণ—৪৪তম বিসিএসের ক্যাডার ছেড়ে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসনে অমিত খানের সাফল্য রাকাব, রাজশাহী জোন-এর শাখা ব্যবস্থাপকগণের সাথে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত মধ্যনগরে বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ সাংবাদিক মাসুদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সরাইল প্রেসক্লাবের নিন্দা। লড়াই থামেনি, স্বপ্নও হারায়নি—লিখিতে রেকর্ড নাম্বার পেয়েও বারবার ভাইভায় বাদ, অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডারে আশানুজ্জামানের জয় চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে মানবতার হাত: অসহায় তোফাজ্জলের পাশে ‘আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী (আসঝি)’ স্বপ্নভঙ্গ থেকে প্রশাসন ক্যাডার—৭ বিসিএসের লড়াই শেষে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে আশফাত হোসেন যে কোনো মূল্যে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর লুট বন্ধ করতে হবে: এমপি রুবেল

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিংয়ে সুনামগঞ্জের নৌপথে ফিরল প্রাণ,ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন গতি বেড়েছে কর্মসংস্থান।

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ১৪৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

শফিকুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং কার্যক্রমে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন পর নৌপথে স্বস্তি ফিরেছে।
পাটলাই, বাউলাই ও রক্তি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও নির্বিঘ্নে চলাচল করছে পণ্যবাহী নৌযান। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি এসেছে এবং শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান বেড়েছে।

শুষ্ক মৌসুমে এই তিনটি নদী প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী—এই তিনটি শুল্ক স্টেশনের কয়লা ও পাথর আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছিল, বাড়ছিল শ্রমিকদের দুর্ভোগ।

এই সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএ গত দুই থেকে তিন বছর ধরে সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কাটার সাকশন ড্রেজারের মাধ্যমে নিয়মিত খননের ফলে চলতি অর্থবছরে নদীর নাব্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নৌযানগুলো নির্বিঘ্নে কয়লা ও পাথর পরিবহন করতে পারছে।

ড্রেজিংকৃত মাটি স্থানীয় উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করায় এলাকাজুড়ে স্বস্তির বাতাস বইছে। নাব্যতা বৃদ্ধি, জলপথ উন্নয়ন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি উত্তোলিত মাটি বিনামূল্যে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক—উভয়ই উপকৃত হচ্ছেন।

বিশেষ করে ট্যাকেরঘাট এলাকায় পাটলাই নদী শুষ্ক মৌসুমে একসময় পুরোপুরি শুকিয়ে যেত। নদীর ওপর দিয়ে পাওয়ার টিলার, গরু-মহিষ এমনকি মানুষও হেঁটে চলাচল করত। এখন ড্রেজিংয়ের ফলে সেই নদীতেই চলছে বড় ছোট সব ধরনের নৌযান।
“বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ কার্যক্রম নৌপথ, ব্যবসা ও স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বড়ছড়া কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খসরুল আলম বলেন,
“গত দুই বছর ধরে বিআইডব্লিউটিএ’র সংরক্ষণ ড্রেজিং কার্যক্রমে নৌপথ অনেকটাই সচল হয়েছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্বিগুণ বেড়েছে। ভবিষ্যতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হলে ব্যবসা আরও বহুগুণে বাড়বে।

বিআইডব্লিউটিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অনুমোদন সাপেক্ষে সরকারি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, মন্দির ও উন্নয়নমূলক নিচু রাস্তায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ড্রেজিংকৃত মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।

২০২৫ অর্থবছরে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও কবরস্থান, বালিঘাট ও পুটিয়া মসজিদ, দুধের আউটা মসজিদ ও কবরস্থানসহ একাধিক নিচু স্থানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বিন্দরবনদ কবরস্থান ও মসজিদ এবং শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সুলেমানপুর আলিয়া ও পন্ডপ দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার নিচু জায়গাতেও উন্নয়নমূলক ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
চলতি বছরে,বড়দল দক্ষিন ইউনিয়ন বিন্দারবনদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর নিচু জায়গামাটি ভরাট।

বিন্দারবনদ মাদ্রাসা স্থাপন ও রাস্তা নিচু জায়গা মাটি ভরাট চলতেছে,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের জনতা হাইস্কুল মাঠে মাটি ভরাট চলতেছে। জামালপুর কবরস্থান নিচু জায়গা মাটি ভরাট।
নবাবপুর কবরস্থান ও সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাটি ভরাট। মারেলা মসজিদ ও মাদ্রাসা নিচু জায়গা মাটি ভরাট।
নোয়াগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচু জায়গায় মাটি ভরাট। নয়ানগর মসজিদ ও কবরস্থান , মাদ্রাসায় নিচু জায়গা মাটি ভরাট। চলতি বছরেও এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমে খনন কার্যক্রম পুরোদমে চললেও নদীর দুই পাশে অবস্থিত হাওর ও ফসলি জমির কারণে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে নদীর দু’পাশের হাওরে পানি জমে থাকায় ড্রেজিং কার্যক্রমে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে খনন কাজের অগ্রগতি কমে যায় এবং সময় লাগে তুলনামূলকভাবে বেশি।

বড়ছড়া আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ও বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাজী সবুজ আলম বলেন,
“১৯৯১ সালে কয়লা ও পাথর আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়। পাহাড়ি ঢলে বালি-মাটি জমে নদী ভরাট হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। চলতি বছর ড্রেজিং কার্যক্রমে নৌপথ সচল হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন গতি হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে।”

শ্রমিক সর্দার ও বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন,
“এই তিনটি শুল্ক স্টেশনে প্রতিদিন এক লাখেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। আগে ১০০ মেট্রিক টন কয়লা বা পাথর পরিবহনে দুই থেকে তিন দিন লাগত। এখন ২০০ থেকে ৩০০ মেট্রিক টন পণ্য একদিনেই পরিবহন সম্ভব হচ্ছে।”
বর্তমানে ট্যাকেরঘাট থেকে মোকশেদপুর নৌপথে কয়লা ও পাথরবোঝাই নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। এতে পরিবহন ব্যবস্থা সচল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে ফিরেছে নতুন গতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Recent Posts

Recent Comments

No comments to show.