মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রথম বিসিএসে তথ্য ক্যাডার, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৫তম—ঢাবি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্য মরা চেলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকিতে জনপদ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল হক প্রথম বিসিএসেই ৪৭তম পশুসম্পদ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত: নওগাঁর মাহবুবুর আলমের অনন্য সাফল্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, কোচিংও করেননি—দিনে চাকরি, রাতে পড়াশোনা; প্রথম চেষ্টাতেই ৪৬তম বিসিএসে আনসার ক্যাডার মুনএমের অনন্য সাফল্য দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, অবশেষে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী) দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, শারীরিক অসুস্থতাকেও হার মানিয়ে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী) দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, শারীরিক অসুস্থতাকেও হার মানিয়ে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী) দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, শারীরিক অসুস্থতাকেও হার মানিয়ে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী) দুইবার ভাইভায় ব্যর্থতা, শারীরিক অসুস্থতাকেও হার মানিয়ে ৪৭তম বিসিএসে কৃষি ক্যাডার: মেধাতালিকায় ২৮তম খালিদ হাসান (বাপ্পী) প্রথম বিসিএসেই স্বাস্থ্য ক্যাডার: মানুষের সেবার স্বপ্ন পূরণ করলেন ডা. তানজিয়া সাইফুল তৃপ্তি

শেরপুরের কৃতি সন্তান সফল চিকিৎসক ডাঃ মহিউদ্দিন আহম্মেদ কাজলের অনুপ্রেরণামূলক পথচলা

প্রতিবেদকের নাম / ১৩৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

 

মিজানুর রহমান, ঝিনাইগাতী, শেরপুর প্রতিনিধি:

গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের কৃতি সন্তান ডাঃ মহিউদ্দিন আহম্মেদ কাজল মেধা, অধ্যবসায় ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

 

তিনি ১৯৯৫ সালে ৮ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন।

পিতাঃ ময়দান আলী মাতাঃ মমতাজ বেগমের স্নেহময় পরিবারে জন্মগ্রহণকারী তিনি দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট।

 

শৈশব থেকেই বাবা-মায়ের নৈতিক শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণা এবং মূল্যবোধ তাঁর জীবনগঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

প্রাথমিক (পঞ্চম শ্রেণি) ও জুনিয়র (অষ্টম শ্রেণি) পর্যায়ে বৃত্তি লাভ তাঁর মেধার প্রাথমিক স্বীকৃতি এনে দেয়।

 

২০১১ সালে ফকিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং ২০১৩ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস কলেজ, পিলখানা, ঢাকা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন

 

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ লাভ করেও শৈশবের লালিত স্বপ্ন—চিকিৎসক হওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষা—তাঁকে চিকিৎসা শিক্ষার পথে পরিচালিত করে।

 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি রংপুর সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০১৯ সালে কৃতিত্বের সাথে ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

২০২০ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর ২০২১ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর নিবন্ধিত চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

 

পরবর্তীতে ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ট্রেইনিং সম্পন্ন করে তিনি নিজেকে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে দক্ষ করে তোলেন।

 

বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনারারি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।

 

পেশাগত জীবনে ডাঃ মহিউদ্দিন কাজল একজন দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত। ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলরোড, কাঠগোলা বাজারে অবস্থিত “মোহনা ডেন্টাল সার্জারি অ্যান্ড রুট ক্যানেল সেন্টার”-এ তিনি মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে নিয়মিত রোগী দেখছেন।

 

প্রতিষ্ঠানটির কনসালটেন্ট ও চিফ হিসেবে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

 

 

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন দায়িত্বশীল ও পরিবারমুখী মানুষ। তাঁর সহধর্মিণী কৃষিবিদ সায়ন্তি শিরিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যা তাঁদের জীবনে নতুন আনন্দের সংযোজন।

 

 

একটি দেশসেবায় নিবেদিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ডাঃ মহিউদ্দিন কাজলের আপনজনরাও সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত।

 

তাঁর বোন রোজিনা আফরিন সুবর্ণা নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত এবং ভগ্নিপতি মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বড় ভাই সায়েদুল ইসলাম মানিক ও ভাবি জান্নাতুল ফেরদৌস আঁখি ও সরকারি দায়িত্বে থেকে দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

 

সামগ্রিকভাবে, ডাঃ মহিউদ্দিন আহম্মেদ কাজল তাঁর মেধা, সততা, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে শেরপুর জেলার গর্বিত সন্তান হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

 

তাঁর এই অনুকরণীয় জীবনপথ প্রমাণ করে—দৃঢ় মনোবল, সৎ প্রচেষ্টা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে সাফল্য অর্জন অনিবার্য। তাঁর অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি সমগ্র শেরপুরবাসীর জন্য গৌরবের এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

Recent Posts

Recent Comments

No comments to show.