সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত বিএনপির স্কুলের জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন শেরপুর শহরের পাশেই ৩ যুগ ধরে কাঁচা সড়ক, দুর্ভোগে তালুকপাড়ার হাজারো মানুষ শেরপুর শহরের পাশেই ৩ যুগ ধরে কাঁচা সড়ক, দুর্ভোগে তালুকপাড়ার হাজারো মানুষ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ছাতক উপজেলা শাখার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কর্ণফুলীর গ্রাসে চন্দ্রঘোনার পাঁচ পাড়া, ঘর হারানোর শঙ্কায় হাজারো মানুষ কাটগড়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উত্তাল জনমত: ‘পিচ্ছি মনি’কে ঘিরে প্রশ্ন, প্রশাসন কেন নীরব? বিশ্বম্ভরপুরে নবনিযুক্ত ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা প্রেসক্লাবের সৌজন্য সাক্ষাৎ তাহিরপুরে ভারতীয় বিড়ি উদ্ধার, অভিযুক্ত কুদ্দুসের খোঁজে পুলিশ ৬৬ মামলা, ৭০১ আসামি—তবুও থামেনি যাদুকাটার অবৈধ বালু উত্তোলন

তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলের হুমকিতে মাদ্রাসা-মসজিদ, যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা।

বিশেষ প্রতিনিধি / ১১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী লাকমা এলাকায় ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরবর্তী ঢলেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি ছড়ার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লাকমা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা ও মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লাকমা ছড়ায় গত কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে ছড়ার পানির স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ছড়ার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়।
শনিবার (২০ জুন) রাতের ভারী বৃষ্টিপাতের পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। পানির প্রচণ্ড তোড়ে ছড়ার পাড় ধসে মাদ্রাসা ও মসজিদের খুব কাছ পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
লাকমা গ্রামের বাসিন্দা মো. রহমত উল্লাহ বলেন, “ভাঙন এখন মাদ্রাসা ও মসজিদের একেবারে কাছে চলে এসেছে। আরেকটি বড় ঢল নামলে প্রতিষ্ঠান দুটি রক্ষা করা কঠিন হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বহু বছরের এই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে যেতে পারে।”
ভাঙনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ওয়ার্ড সদস্য সাফিল মিয়া জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছেন। চেয়ারম্যান দ্রুত এলাকা পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, “ভাঙনের বিষয়টি আগে কেউ আমাকে জানায়নি। সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।”
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলের কারণে এমন ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হলেও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত টেকসই বাঁধ বা তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এখনই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শুধু মাদ্রাসা ও মসজিদই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। ফলে পুরো এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর