সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়ছড়া জয়বাংলা বাজারে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এক কিশোরীকে জনতা আটকের পর প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে বড়ছড়া জয়বাংলা বাজার এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে বাজারের পাহারাদার ফজলুর রহমান এক কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার কাছে ইয়াবা থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং কোমরে লুকিয়ে রাখা ৩০ পিস ইয়াবা জনসম্মুখে বের করে দেয় বলে উপস্থিত লোকজন দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিশোরী জানায় যে তার মা রতনা আক্তার (আবুনি) তাকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে বাজারের বাদল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর কাছ থেকে ইয়াবা আনতে পাঠিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি বাজার কমিটিকে জানানো হলে ইয়াবাসহ কিশোরীকে তাদের হেফাজতে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরপরই প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া মেলেনি। সকাল ১১টার ঘটনায় পুলিশ রাত প্রায় ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কিশোরীর অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিশোরীর মা রতনা আক্তার (আবুনি) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বর্তমান স্বামী মোহাম্মদ আলী (কসাই) মাদক ব্যবসা পরিচালনায় জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, যাঁর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে, সেই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও মাদক সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিক জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিশোরীকে তার অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার এবং মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।