বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চুরি মামলার তদন্তে লেদা ক্যাম্প থেকে দুই রোহিঙ্গা আট বাংলাদেশিদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি সিলেটে কবি আবুল বশর আনসারীর কবিতার স্মৃতিফলক পরিদর্শনে চিত্রনায়ক হেলাল খান আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: রাজশাহীতে যুবদলের সমাবেশে এমপি মিলন প্রকাশিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন খন্দকার মঞ্জুর আহমেদ। গাড়িবহরে হামলার মামলা: নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকর্মী আটক আজকের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি আগামী দিনের স্বৈরতন্ত্রের পথ তৈরি করছে? জাদিমুড়ায় রাস্তা দখল করে দোকান, রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির অভিযানে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতা জহির ফকির হত্যা মামলার পলাতক আসামি কবির হোসেন কক্সবাজারে গ্রেফতার ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তৎপর কোস্ট গার্ড উখিয়ায় পাহাড় কাটার সময় মাটিভর্তি ডাম্পারসহ আটক ১ টেকনাফে ১০৫ সদস্যের যৌথ অভিযান, মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার: চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচ এম ছামিউল হক (রাজু) সেন্টমার্টিনে ২৩২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল কোস্ট গার্ড রাজশাহী শিশু হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ ২০২৩ সালে , তবুও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা হিমছড়ি ঢালায় ডাকাতির ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তার পূর্ব আকাশ কুড়ি যুব সংঘ বনাম নব উন্নয়ন যুব ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক   বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654

ত্যাগ সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ৩১২ বার দেখা হয়েছে
নিউজটি প্রকাশ হয়েছে রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজপথ আদালত ও মানবাধিকারের লড়াইয়ে আপসহীন এক জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব

চট্টগ্রামের কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ী শুধু একটি বসতভিটা নয়,এটি একটি ইতিহাস,একটি আদর্শিক ধারার উত্তরাধিকার।সেই পরিবারেরই কন্যা এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী আজ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অঙ্গনে সাহসী,দৃঢ়চেতা এবং আপসহীন এক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।তিনি এমন এক পরিবারে জন্ম নিয়েছেন যেখানে রাজনীতি ছিল দায়বদ্ধতার নাম,দেশপ্রেম ছিল বিশ্বাসের ভিত্তি,আর সংগ্রাম ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা।ভাষা সৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ,সমাজসেবক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বদিউল আলম চৌধুরীর আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন কিভাবে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে দাঁড়াতে হয়।তার মাতা মরহুমা লুৎফা বেগম সুরাইয়া চৌধুরী ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডেমুশিয়া জমিদার পরিবারের কন্যা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং দৃঢ়চেতা এক নারী। পারিবারিক ঐতিহ্য,রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে কানিজ কাউসার চৌধুরীর ব্যক্তিত্ব।

ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনজন সরাসরি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।বড় বোন ডঃ নাজনীন কাউসার চৌধুরী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।বড় ভাই আহমেদ উল আলম চৌধুরী ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।ছোট ভাই মাহমুদ উল আলম চৌধুরী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অর্থ সম্পাদক এবং মহানগর যুবদলের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।পরিবারটি কেবল রাজনৈতিকভাবে পরিচিত নয়,তারা প্রতিকূল সময়ে পরীক্ষিত,সংকটে অবিচল এবং আদর্শে দৃঢ়।

শিক্ষাজীবনে এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরী ছিলেন মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ।১৯৯১ সালে সেন্ট স্কলাস্টিকা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি,১৯৯৩ সালে সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি,১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।২০০২ সালের ২৯ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে টানা ২৪ বছর ধরে আইন পেশায় সক্রিয় আছেন।

তিনি আদালতে এজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।আইন তার কাছে শুধু জীবিকা নয়,ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি দৃঢ় হাতিয়ার।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রদলের পক্ষে নির্বাচন করেন।১৯৯৫ সালে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন জিসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং চট্টগ্রাম মহানগর জিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংগঠন গড়ে তোলার কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় গণতন্ত্র মঞ্চে টানা পনের দিন সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেন। রাজনীতি তার কাছে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, এটি বিশ্বাসের জায়গা, এটি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাথে তার সম্পৃক্ততা কেবল নামমাত্র নয়,কার্যকর ও দৃশ্যমান।গত সতের বছর ধরে রাজনৈতিক মামলা পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।২০০৬ সালে আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বোচ্চ ভোটের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।১ ১১ পরিবর্তনের পর যখন বিএনপির ওপর দুঃসময়ের ছায়া নেমে আসে, তখন তিনি তার সিনিয়রের সহযোগী হিসেবে প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয় উপস্থিতি রাখেন।আদালত প্রাঙ্গণে ভয়ভীতি,চাপ,নজরদারি উপেক্ষা করে তিনি যুক্তি, আইনের ব্যাখ্যা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেন।

২০১৭ সালে নয়াপল্টনে স্কাইপি সংলাপে অংশ নিতে যখন অনেকেই ভীত ছিলেন,তখন তার নেতৃত্বে চারজন মহিলা আইনজীবী সাহসিকতার সাথে অংশগ্রহণ করেন।২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়া’র রায়ের দিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের বিক্ষোভে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন।গ্রেফতার হওয়া নেতাদের আইনি সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মেয়র নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় একমাত্র মহিলা আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।রাজনৈতিক চাপের পরিবেশেও তিনি পিছু হটেননি।

জুলাই আন্দোলন তার জীবনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রতিদিনের কর্মসূচিতে তিনি বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সম্মুখ সারিতে ছিলেন। ৩১ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচিতে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে আটজন আইনজীবী ব্যারিকেড তৈরি করেছিলেন, তিনি ছিলেন তাদের একজন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদিন মাঠে ছিলেন। ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ছাত্ররা যখন বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়,তখন আইনি সহায়তার তালিকায় তার নাম প্রথমে ছিল।তিনি উদ্যোগ নেন,সমন্বয় করেন,সহায়তা নিশ্চিত করেন।ঝুঁকি জেনেও পিছিয়ে যাননি।নিজের পরিবার বিপদে পড়তে পারে জেনেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। তার এই অবস্থান চট্টগ্রামের আইনজীবী সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মামলা বিনা ফিতে পরিচালনা করেছেন।লিগ্যাল এইড দিয়েছেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করেছেন।মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী পরিষদের আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটার্স ফাউন্ডেশনের আকবর শাহ থানার সভাপতি, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য, চট্টগ্রাম কলেজ ফাউন্ডেশনের মানবাধিকার সম্পাদকসহ অসংখ্য সংগঠনে দায়িত্ব পালন করছেন।শিক্ষা, মানবাধিকার, সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

তিনি প্রমাণ করেছেন রাজনৈতিক পরিচয় মানে শুধু মিছিল নয়, দায়িত্বও। তিনি দেখিয়েছেন আইনজীবী মানে কেবল আদালত নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি দেখিয়েছেন নারীর নেতৃত্ব মানে প্রতীকী উপস্থিতি নয়, কার্যকর অবস্থান। দুর্দিনে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন না। ভীতির সময়ে তিনি নীরব ছিলেন না। চাপের সময়ে তিনি আপস করেননি। রাজপথে যেমন দৃঢ়, আদালতে তেমনি যুক্তিনির্ভর, অনলাইনে তেমনি স্পষ্টভাষী।

তার এবং তার পরিবারের ত্যাগ নিছক দাবি নয়, এটি প্রমাণিত ইতিহাস। বহুবার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। নজরদারি, চাপ, ভয়ভীতি সবকিছুর মধ্যেও অবস্থান বদলাননি। তিনি জানেন আদর্শের পথ সহজ নয়। তবু তিনি সে পথেই হাঁটছেন। কারণ তার কাছে রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, বিশ্বাস। তার কাছে আইন মানে সুবিধা নয়, ন্যায়। তার কাছে সংগ্রাম মানে প্রদর্শন নয়, দায়িত্ব।

আজ সময় এসেছে এই ত্যাগী, সাহসী, পরীক্ষিত নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করার। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী নন, তিনি একটি ধারার প্রতিনিধি। তিনি এমন এক প্রজন্মের মুখ, যারা ভীতির সংস্কৃতি মানে না, অন্যায়ের সাথে আপস করে না, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে নীরব থাকে না।ইতিহাস যখন এই সময়কে মূল্যায়ন করবে,তখন প্রতিকূল সময়ে যারা সামনে দাঁড়িয়েছিল তাদের তালিকায় এডভোকেট কানিজ কাউসার চৌধুরীর নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।তিনি লড়েছেন,লড়ছেন এবং আদর্শের প্রশ্নে আপসহীন থেকে লড়াই চালিয়ে যাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ