রোববার (১০ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম পরিবহন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজশাহীর আম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এ সুনাম ধরে রাখতে হলে অবশ্যই পরিপক্ব ও নিরাপদ আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে এ ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম সংগ্রহ বা বাজারজাত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় প্রকাশিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী—
সকল প্রকার গুটি আম সংগ্রহ করা যাবে ১৫ মে থেকে
গোপালভোগ ২২ মে
রাণীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে
হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে
ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া ১০ জুন
আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
এছাড়া বারি আম-৪ নামানো হবে ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই এবং গৌড়মতি ১৫ জুলাই। কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারাবছর বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ করলে ফলের স্বাদ, রঙ ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। একই সঙ্গে অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারে প্রবেশের সুযোগ কমে যায়। এতে ভোক্তারা নিরাপদ ফল পান এবং আমচাষিরাও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারেন।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ফল গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আমচাষি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।