প্রথম বিসিএসে তথ্য ক্যাডার, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৫তম—ঢাবি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্য
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
স্বপ্ন যদি থাকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার, আর সেই স্বপ্ন পূরণে থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নিরলস পরিশ্রম—তবে সাফল্য একদিন ধরা দিতেই হয়। এমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প গড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। প্রথম বিসিএসেই তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি। নিজের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৫তম স্থান অর্জন করে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তাঁর বিশ্বাস, প্রশাসন ক্যাডার এমন একটি দায়িত্বশীল ও কার্যকর ক্ষেত্র, যেখান থেকে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রান্তিক গ্রামের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠায় ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট, সংগ্রাম ও বাস্তব জীবনের নানা চিত্র খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছে। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রশাসন ক্যাডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলা।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী। রাজাপুর কহেলা বাহরাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পর ভর্তি হন সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। সেখান থেকেও জিপিএ-৫ অর্জন করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। অনার্স সম্পন্ন করার পরই তিনি বিসিএস প্রস্তুতিতে পূর্ণ মনোযোগ দেন। কঠোর অধ্যবসায় ও পরিকল্পিত প্রস্তুতির ফল হিসেবে প্রথম বিসিএসেই তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। তাই তথ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তিনি লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান। ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩৫তম স্থান অর্জন করে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিসিএস প্রশাসন একটি মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু অত্যন্ত দায়িত্বশীল ক্যাডার। আমি সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, এই অর্জনের পেছনে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, পরিবার, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারেন, সে জন্য তিনি সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেছেন।
অধ্যবসায়, লক্ষ্যনিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না—এই তরুণ প্রশাসন ক্যাডারের সাফল্যের গল্প সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছে। তাঁর এই অর্জন বিসিএস প্রত্যাশী অসংখ্য তরুণ-তরুণীর জন্য নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।