বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দোয়ারাবাজারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপের আহবান প্রান্তিক কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিলেন ব্রাক ডিমলায় স্বপ্নের রামডাংগা সামাজিক সংগঠন এর নলকূপ বিতরন। সিলেট রেঞ্জের সেরা ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষক সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আনিস-উজ-জামান শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান 

বাঁশখালী মায়ের করা মামলায় ছেলে গ্রেপ্তার, জেলহাজতে প্রেরণ

বার্তা সম্পাদক / ৯৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

বাঁশখালীতে নেশার টাকার জন্য গর্ভধারিণী মাকে মারধর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় নেশার টাকার জন্য নিজের গর্ভধারিণী মাকে মারধর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মাহামুদুল হক (২৩)। তিনি বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ী এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভী পাড়ার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী রাজিয়া বেগম (৪৫)-এর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে রাজিয়া বেগমের স্বামীর বসতঘরের উঠানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মাহামুদুল হক দীর্ঘদিন ধরে নেশায় আসক্ত এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

সেদিন তিনি তার মায়ের কাছে নেশার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি লাঠি দিয়ে মায়ের পিঠ, কোমর ও পায়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে রাজিয়া বেগমের গলায় থাকা বিবাহকালীন স্বর্ণালংকার—প্রায় দেড় ভরি ওজনের একটি চান্দি, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা, জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এতে তার গলার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

 

অভিযুক্ত তখন লাঠি হাতে গুরুতর হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে প্রতিবেশীরা আহত রাজিয়া বেগমকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা টিকিট আদালতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও অভিযুক্ত মাহামুদুল হক একাধিকবার তার মাকে হাত-পা বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছিলেন, যা নিয়ে পূর্বে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাজিয়া বেগম তার স্বামী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন।

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নেশার ভয়াবহ প্রভাব কীভাবে পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করে দিতে পারে—এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর