ময়মনসিংহের মাকসুদুল আলম নাঈম: ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে ৪৭তম বিসিএসে কর ক্যাডারে সাফল্যের গৌরব
মিজানুর রহমান,বিশেষ প্রতিবেদন:
অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব—এরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ময়মনসিংহের কৃতী সন্তান মাকসুদুল আলম নাঈম। ব্যাংকিং পেশায় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় কর (ট্যাক্স) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিজের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
মাকসুদুল আলম নাঈমের জন্ম ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার দড়িভাবখালী গ্রামে। শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় ৯৫ নং ফুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ভাবখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
পরবর্তীতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ, ময়মনসিংহ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করে কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে।
চাকরি জীবনের শুরুতে ২০২৫ সালের জুন মাসে তিনি সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-তে সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত অবস্থাতেই বিসিএসের প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়ে তিনি ৪৭তম বিসিএসে কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেন।
নিজের এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন মাকসুদুল আলম নাঈম। তিনি জানান, শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তাঁর ব্যাংক কর্মকর্তা কাকা এবং ব্যবসায়ী পিতার উৎসাহ, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা তাঁকে সবসময় সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।
মাকসুদুল আলম নাঈমের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবারের জন্যই নয়, ময়মনসিংহবাসীর জন্যও গর্বের বিষয়। তাঁর সাফল্য আগামী প্রজন্মের বিসিএস ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।