ময়মনসিংহের শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয়ের স্বপ্নজয়: কুয়েট থেকে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য আত্মবিশ্বাস মানুষকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেই সত্যের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহ সদরের কৃতি সন্তান শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয়। দেশের অন্যতম সেরা প্রকৌশল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে এবার ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
ময়মনসিংহ সদরের বাসিন্দা শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ। তার শিক্ষাজীবনের সূচনা প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাই স্কুলে, যেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক (এসএসসি) সম্পন্ন করেন। এরপর দেশের ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE) বিভাগে।
প্রকৌশল শিক্ষার কঠিন পথ পাড়ি দিয়েও তিনি থেমে থাকেননি। দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এ অংশ নিয়ে নিজের মেধা, অধ্যবসায় এবং নিরলস পরিশ্রমের স্বাক্ষর রেখেছেন। অবশেষে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ময়মনসিংহবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
নিজের এই অনন্য অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করে শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয় লিখেছেন—
“আলহামদুলিল্লাহ… আলহামদুলিল্লাহ… আলহামদুলিল্লাহ। ৪৫তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমার আব্বু-আম্মুর দিনরাতের দোয়াই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। সবার কাছে দোয়াপ্রার্থী।”
তার এই বিনয়ী অনুভূতি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন তাকে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই জয় ছিলেন অত্যন্ত নিয়মানুবর্তী ও পরিশ্রমী। প্রতিটি ধাপে তিনি পরিকল্পিতভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের নিরলস প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শিক্ষক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলেন, শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয়ের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি ময়মনসিংহের শিক্ষার্থীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা। তার সফলতার গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে, কঠোর পরিশ্রম করতে এবং সততা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
ভবিষ্যতে একজন সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শাতিল মাহমুদ আকন্দ জয়। তার এই অসাধারণ অর্জনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষক এবং সর্বস্তরের মানুষ আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সফল কর্মজীবন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।