শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেওয়ানগঞ্জে অজ্ঞাত ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার তাহিরপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো: মকবুল হোসেনের প্রার্থিতা ঘোষণা। তাড়াশে শিয়াল ঠেকাতে বৈদ্যুতিক ফাঁদ, প্রাণ গেল গৃহবধূর, আশঙ্কাজনক দুই শিশু বকশীগঞ্জে বগারচর আদর্শ রানার্স ক্লাবের উদ্যোগে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, ঈদগাঁওয়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ শেরপুর জেলা ছাত্রশক্তির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করল জেলা এনসিপি চুরির অভিযোগে চাকমারকুল ক্যাম্পে গ্রেপ্তার ৩ মাছের চড়া দামে মলিন মহিষলুটির শুঁটকিপল্লির ব্যস্ততা, লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা হিমছড়িতে সাগরে ডুবে ৪ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ কোস্ট গার্ড দেখে পালাল বোটের আরোহীরা, মিলল ৫০ হাজার মাদক 

মাছের চড়া দামে মলিন মহিষলুটির শুঁটকিপল্লির ব্যস্ততা, লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

দৈনিক সোনালী সময় / ৪৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

 

তাড়াশ প্রতিনিধি, মোঃ শামসুজ্জোহা:
চলনবিলের বুকজুড়ে যখন ধীরে ধীরে কমে আসে বর্ষার পানি, তখনই মাছ ঘিরে নতুন স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন মহিষলুটির শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। রোদে মেলে ধরা মাছ, শুকানোর ব্যস্ততা আর শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে শুঁটকিপল্লি। কিন্তু এবারের মৌসুমে সেই চেনা ব্যস্ততার আড়ালেই জমেছে দুশ্চিন্তার মেঘ। মাছের চড়া দাম, সরবরাহের অনিশ্চয়তা আর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় শুঁটকি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত মহিষলুটি শুঁটকিপল্লির ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে কাজে নামলেও কাঙ্ক্ষিত লাভের দেখা মিলবে কি না, তা নিয়ে এখন নানা হিসাব-নিকাশ করছেন তারা।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীদের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই বিলের পানি আগেভাগে নেমে যাওয়ায় মাছের প্রাপ্যতা ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ফলে কাঁচা মাছ সংগ্রহ করতে হচ্ছে তুলনামূলক বেশি দামে। শুঁটকি তৈরির প্রধান উপকরণ মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় শুরুতেই বাড়তি পুঁজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। মাছ কেনার পর তা পরিষ্কার করা, শুকানো, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই রয়েছে ব্যয়ের চাপ। সব খরচ সামলে বাজারে শুঁটকি বিক্রি করে লাভের মুখ দেখা এখন কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীদের কাছে শুঁটকি উৎপাদন কেবল একটি মৌসুমি বাণিজ্য নয়, বরং বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আয়ের বড় অবলম্বন। সময়মতো মাছ সংগ্রহ, রোদে শুকিয়ে মানসম্মত শুঁটকি তৈরি এবং উপযুক্ত বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ওপর নির্ভর করে তাদের ব্যবসার সাফল্য। কিন্তু কাঁচা মাছের দাম বাড়লেও শুঁটকির বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে না বাড়লে পুঁজি ফেরত পাওয়া নিয়েও তৈরি হয় শঙ্কা। এ অবস্থায় কেউ কেউ ব্যবসার পরিধি নিয়ে নতুন করে ভাবছেন, আবার অনেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় চালিয়ে যাচ্ছেন উৎপাদন কার্যক্রম।

শুঁটকিপল্লির এই সংকটের প্রভাব পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও। মাছ পরিষ্কার, শুকানোর কাজে ছড়িয়ে থাকা মাছ উল্টেপাল্টে দেওয়া, বাছাই ও অন্যান্য কাজে যুক্ত রয়েছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকেরা দৈনিক প্রায় ৫০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকেরা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মজুরি পান। এই আয় দিয়েই চলে অনেক শ্রমজীবী পরিবারের সংসার। ফলে শুঁটকি উৎপাদন ও বেচাকেনা বাধাগ্রস্ত হলে তাদের দৈনন্দিন উপার্জনেও অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমের ব্যস্ত সময়ে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলনবিলের প্রকৃতি, মাছ আর মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে মহিষলুটি শুঁটকিপল্লির পরিচয়। এখানে উৎপাদিত শুঁটকিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতির একটি পরিচিত কর্মক্ষেত্র। ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও মাছ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সম্মিলিত শ্রমে এগিয়ে চলে এই শিল্প। তাই মাছের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব একটি ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে বহু মানুষের জীবিকা ও সংসারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মাছের সরবরাহ বাড়লে এবং বাজারদর সহনীয় পর্যায়ে এলে শুঁটকি উৎপাদনে আবারও গতি ফিরবে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হলে ব্যবসায়ীদের লোকসানের শঙ্কা কমবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও থাকবে সচল। চলনবিলের ঐতিহ্যবাহী এই শুঁটকিপল্লির ব্যস্ত উঠোনগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাক—এমন প্রত্যাশাই এখন ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর