মো: ফাহিম মিয়া, ক্রাইম রিপোর্টার:
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং এলাকার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন—এসব কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) দলনেতা মো. আবু বকর সিদ্দিক। ২০২২ সালের ১ এপ্রিল আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকে জনসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত একজন সাহসী ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে।
অসহায় মানুষের পাশে সব সময়:
আবু বকর সিদ্দিকের জনসেবামূলক কাজের অন্যতম দিক হলো অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। দিন হোক কিংবা রাত, এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রে নিজের অর্থ ব্যয় করে রোগীর চিকিৎসায় সহযোগিতাও করেন। এক গর্ভবতী নারীকে নিজ খরচে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ঘটনাও রয়েছে তার জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের তালিকায়।
এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে টিসিবির কার্ড সংগ্রহ করে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালে পৌরসভার অনুমোদনে চারটি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ব্যবহারের জন্য সেগুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেন।
নিরাপত্তা ও জনসচেতনতায় সক্রিয় ভূমিকা:
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে থানা পাহারা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনে ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন আবু বকর সিদ্দিক। দিন-রাত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করেন।
বাল্যবিবাহ, মাদক, অস্ত্রের অবৈধ চালান, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে রাতে পাহারা দেওয়া এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজেও অংশ নেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় দাপ্তরিক কার্যক্রমেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কার্যক্রম:
আবু বকর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মাসে তার বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া।
২. চারজন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করতে সহযোগিতা করা।
৩. তিনটি শিশুকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
৪. এক গর্ভবতী নারীকে নিজ খরচে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করা।
৫. ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করা।
৬. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বাধা দেওয়া ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
৭. ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো।
৮. রাতে ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা।
৯. চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং শিশু পাচার প্রতিরোধে পুলিশকে সহযোগিতা করা।
১০. ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় প্রতিমা ভাঙচুরের উদ্দেশ্যে অবস্থান করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সহযোগিতা করা।
এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার চেষ্টা করেন তিনি। অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়া এবং জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন।
দায়িত্ববোধ থেকেই জনসেবা:
আবু বকর সিদ্দিকের মতে, আনসার ও ভিডিপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার মানুষ যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন এবং অসহায়রা প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা পান, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যেতে চান।
তার এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দায়িত্ব পালন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতার মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
তারাব পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেতা মো. আবু বকর সিদ্দিকের এই পথচলা স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা এবং এলাকার নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়েই তিনি তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।