৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মেধাক্রমে চতুর্থ ফজলে রাব্বী হৃদয়
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে মেধাক্রমে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ ফজলে রাব্বী হৃদয়। তাঁর এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ফজলে রাব্বীর জন্ম সাতক্ষীরা জেলায়। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন শহরে। প্রাথমিক শিক্ষা যশোর ও সাতক্ষীরায় সম্পন্ন করার পর তিনি ভোমরা ইউনিয়ন পল্লী শ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং সরকারি খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
এইচএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে সেই ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতকে ৩.৭৯ এবং থিসিসসহ স্নাতকোত্তরে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করে একাডেমিক জীবন সফলভাবে শেষ করেন।
গত বছর একাডেমিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর পুরোপুরি বিসিএস প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন তিনি। ২০২৪ সাল থেকে শুধুমাত্র বিসিএসকে লক্ষ্য করে নিয়মিত ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দুই বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২৬ সালে ৪৭তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং মেধাক্রমে চতুর্থ স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেন।
নিজের বিসিএস যাত্রা সম্পর্কে ফজলে রাব্বী হৃদয় বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিজ্ঞান ও গণিতে তেমন সমস্যা হয়নি। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষতা অর্জন করেন। তবে বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তিনি প্রতিদিন পত্রিকা পড়তেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন সংরক্ষণ করতেন এবং সমসাময়িক বিষয়গুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতেন। তাঁর ভাষায়, এত বেশি সংবাদ ও তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যে, একসময় মোবাইল ডিভাইসে অন্য কিছুর চেয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদদের ছবিই বেশি জমা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “বিসিএসের পথ কখনোই সহজ নয়। এই যাত্রায় ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। মহান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর। ভবিষ্যতেও যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারি, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”
ফজলে রাব্বী হৃদয়ের এ অর্জন বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব, তাঁর জীবনগল্প তারই বাস্তব প্রমাণ।