স্টাফ রিপোর্টারঃ
বর্ণাঢ্য আয়োজন, আনন্দঘন পরিবেশ এবং হাজারো সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে আজ অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়, রাজশাহী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণজয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন আয়োজনের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, অভিভাবক, সুবর্ণজয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন আয়োজনের সকল কমিটি ও উপকমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব মোঃ সাইফুল হক (চাঁদ)।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য ও অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রুয়েটের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোছা. আশীয়ারা খাতুন।
স্বাগত বক্তব্যে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব, রাজশাহীর প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. মোঃ ফিরোজ উদ্দীন বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠান কোনো সাধারণ আয়োজন নয়; প্রতিষ্ঠানের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গৃহীত সুবর্ণজয়ন্তী ২০২৬ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন কার্যক্রম আজ থেকে উদ্বোধন করা হলো। তিনি জানান, “সুবর্ণ গৌরবে আগামীর যাত্রা” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মূল উৎসব আগামী ২৫–২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ (শুক্র ও শনিবার) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার এবং নিজ নিজ ব্যাচের বন্ধুদের নিবন্ধনে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের এই মহতী আয়োজনে স্পন্সর ও পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি রুয়েট ভিসি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের সামগ্রিক ফলাফলে যে সাফল্য দেখা যাচ্ছে তা প্রশংসার দাবি রাখে এবং একটি আদর্শ জাতি গঠনে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলা ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই মহতী উদ্যোগ নিয়ে আনন্দ ও শুভকামনা প্রকাশ পায়। রুয়েটের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে অগ্রণী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছরের শিক্ষা-সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের পঞ্চাশ বছর পূর্তি একই সঙ্গে গৌরবের এবং দায়িত্বেরও বিষয়; তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোছা. আশীয়ারা খাতুন তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সুবর্ণজয়ন্তীর এই আয়োজন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এক সূত্রে বেঁধে দেবে, তাই সকল অগ্রণীয়ানকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিবন্ধন করে এই আয়োজনকে সার্থক করে তোলার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সুবর্ণজয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জনাব মোঃ সাইফুল হক (চাঁদ) তাঁর সভাপতির বক্তব্যে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের পঞ্চাশ বছরের এই পথচলা সম্ভব হয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সবার আন্তরিক সহযোগিতায়।
সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে সার্থক ও স্মরণীয় করে তুলতে তিনি সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানান।
প্রতিষ্ঠানের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে পেমেন্ট গেটওয়েসহ একটি অনলাইন নিবন্ধন পোর্টাল চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশ থেকে যে কোনো প্রাক্তন শিক্ষার্থী সহজে নিবন্ধন করতে পারবেন। আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ এই আয়োজনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হবে।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আব্দুর রোকন মাসুম এবং প্রাক্তন অগ্রণীয়ান বিউটি খাতুন। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিল গ্রাম বাংলা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রাজশাহী।