শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শজিমেকে প্রধান সহকারী পদ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ: আলোচনায় উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম দোয়ারাবাজারে ব*জ্রপাতে হাঁস পালকের মৃত্যু শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলাবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেজর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ঝড়ে গাছচাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু, ঘরবাড়ি-গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি। শীলকূপে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান একদিনেই আটক ১৩ জন, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড। আমেরিকান প্রবাসী ড. মাহফুজুর রহমান (পিএইচডি) শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতীবাসীকে ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বানারীপাড়ায় জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু সচেতনতায় গেটকা প্রকল্পের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের সেরা কৃষি উদ্যোক্তা পুরস্কার পেলেন শেরপুরের আব্দুল কাদির। “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। “ শোক সংবাদ ====================

শজিমেকে প্রধান সহকারী পদ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ: আলোচনায় উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম

প্রতিবেদকের নাম / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক)-এ প্রশাসনিক জালিয়াতি, দাপ্তরিক প্রতারণা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ‘প্রধান সহকারী’ পদ দখলকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে ফরওয়ার্ডিং জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ আদায়ের অভিযোগে হাসপাতালজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহীন ইসলাম প্রথমে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি সাধারণ আবেদন জমা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর সময় পরিচালক মহোদয়ের স্বাক্ষর করা ফরওয়ার্ডিং চিঠির সঙ্গে মূল আবেদন পরিবর্তন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সুপারিশসংবলিত ভিন্ন একটি আবেদন সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ কৌশলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করে নিজের পদায়নের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বর্তমানে প্রধান সহকারী পদে দায়িত্ব পালনকারী এস এম কামরুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা বা প্রশাসনিক অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সহকর্মীদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এদিকে শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামীপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনি একসময় বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শজিমেক শাখার কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি বিএনপিপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তির সুপারিশ ব্যবহার করে প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক অবস্থান বদল করেছেন শাহীন ইসলাম।

সূত্র জানায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৮ সালে অফিস সহকারী পদ থেকে উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি নেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ওই পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালেও দ্বিতীয় দফায় পদোন্নতি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক গ্রুপিং সৃষ্টি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনের আহত ও ভুক্তভোগীদের মেডিকেল বোর্ড-সংক্রান্ত ফরওয়ার্ডিং কাগজপত্র প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহীন ইসলামের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করেছেন, প্রতারণামূলক উপায়ে সংশ্লিষ্ট আদেশ আদায়ের ঘটনা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান বিতর্কিত আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর