বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দোয়ারাবাজারে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপের আহবান প্রান্তিক কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিলেন ব্রাক ডিমলায় স্বপ্নের রামডাংগা সামাজিক সংগঠন এর নলকূপ বিতরন। সিলেট রেঞ্জের সেরা ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ী মাধ্যমিক শিক্ষক সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আনিস-উজ-জামান শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান 

পদোন্নতি না পেয়ে পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর?

​নিজস্ব প্রতিবেদক / ঢাকা: / ৫৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি না পাওয়ায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলী আকবর খান পিআরএলের (অবসর-পূর্ব ছুটি) আবেদন করেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ সদর দপ্তর।

বৃহস্পতিবার পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি করা হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলী আকবর খানের নাম না থাকায় তাঁর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি পিআরএলের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আলী আকবর খান বলেন, “এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে চাইছি না।”

এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১ জুন আলী আকবরকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান করে আদেশ জারি করে পুলিশ সদরদপ্তর।

এদিকে আলী আকবর খানকে ঘিরে পুরোনো একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালনকালে একজন জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সে সময় ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

অন্যদিকে একাধিক সূত্রের দাবি, আলী আকবর খানকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে সিআইডির প্রধান করার প্রস্তাব প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে পদোন্নতি হয়নি।

একইসঙ্গে আলী আকবর খানের পিআরএল আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং তিনি আদৌ দায়িত্ব ছাড়ছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।

 

এদিকে পদত্যাগ ও পিআরএলে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর প্রতিবেদকের হাতে আসে এ সংক্রান্ত দুটি সরকারি নথি। এর একটি আলী আকবর খানের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র, অন্যটি সেই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সিআইডির প্রশাসনিক পত্র।

আলী আকবর খানের স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হন এবং ৭ এপ্রিল ২০২২ সালে চাকরিচ্যুত হন। প্রায় ১৬ বছর চাকরির বাইরে থাকার পর ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে তিনি পুনর্বহাল হন।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হওয়ায় চাকরিতে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এ জন্য তিনি নিহত ও আহত ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ১৫ নভেম্বর ১৯৯৫ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে তাঁর নাম না থাকায় তিনি মনে করছেন, কোনো জানা-অজানা অযোগ্যতার কারণে তিনি আবারও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা না হয়ে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে চান।

আবেদনে তিনি আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর এবং ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (প্রি-রিটায়ারমেন্ট লিভ) মঞ্জুরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে একই দিন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পত্রে বলা হয়, আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং ২ জুলাই ২০২৬ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর