সনদ বিহীন পশু পল্লি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গরু মৃত্যুর অভিযোগ,দীর্ঘ ৮ মাসেও ভুক্তভোগী কোনো সুরাহা পাইনি, পুনরায় ইউএনও’র কাছে বিচার চেয়ে আবেদন
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাও গ্রামের ভুয়া পশু পল্লি চিকিৎসক মোঃ তুহিন মিয়ার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক প্রান্তিক খামারি। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে খামারিটি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম মানসিক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের কৃষক ও খামারি মো. আব্দুল হাকিম তার অসুস্থ গরুর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সনদ বিহীন পশু পল্লি চিকিৎসক মো. তুহিন মিয়ার শরণাপন্ন হন। গরুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম বলেন, “গরুর অবস্থা খারাপ দেখে আমি তুহিনকে বলেছিলাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নিয়ে আসতে। তখন তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমি দেখছি, নিয়ে যাচ্ছি।’ কিন্তু পরে তিনি ২ জন লোক সাথে নিয়ে চিকিৎসা করেন।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াই গরুটিকে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসার পর গরুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে সেটি মারা যায়। এতে খামারির প্রায় ৯০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ খামারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার গরুর মৃত্যু হয়েছে এবং এর ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ইতিপূর্বে তার ভুল চিকিৎসায় আরও অনেক গরুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য কোনো খামারি যেন এমন ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, লিখিত আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী খামারি আব্দুল হাকিমের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।