বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুনামগঞ্জে সাংবাদিকতার পরিচয়ে হাসান আলীর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির অভিযোগে এলাকাবাসির মানববন্ধন। মনে রেখো বাংলাদেশ! চুরি মামলার তদন্তে লেদা ক্যাম্প থেকে দুই রোহিঙ্গা আটক বাংলাদেশিদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি সিলেটে কবি আবুল বশর আনসারীর কবিতার স্মৃতিফলক পরিদর্শনে চিত্রনায়ক হেলাল খান আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হবে: রাজশাহীতে যুবদলের সমাবেশে এমপি মিলন প্রকাশিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন খন্দকার মঞ্জুর আহমেদ। গাড়িবহরে হামলার মামলা: নীলফামারীতে আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকর্মী আটক আজকের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কি আগামী দিনের স্বৈরতন্ত্রের পথ তৈরি করছে? জাদিমুড়ায় রাস্তা দখল করে দোকান, রোহিঙ্গা যুবকের কারাদণ্ড উখিয়ায় ৬৪ বিজিবির অভিযানে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার সোনারগাঁওয়ে যুবদল নেতা জহির ফকির হত্যা মামলার পলাতক আসামি কবির হোসেন কক্সবাজারে গ্রেফতার ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, তৎপর কোস্ট গার্ড উখিয়ায় পাহাড় কাটার সময় মাটিভর্তি ডাম্পারসহ আটক ১ টেকনাফে ১০৫ সদস্যের যৌথ অভিযান, মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার: চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচ এম ছামিউল হক (রাজু) সেন্টমার্টিনে ২৩২ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল কোস্ট গার্ড রাজশাহী শিশু হাসপাতালের অবকাঠামোর কাজ শেষ ২০২৩ সালে , তবুও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক   বাংলা নিউজ মিডিয়া থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সময় পত্রিকায় সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp +44 7574 879654

ঢাবিতে তৃতীয়, ছাত্রজীবনেই বিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এবার বিসিএস জয়

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি: / ৩৫৬ বার দেখা হয়েছে
নিউজটি প্রকাশ হয়েছে সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

ঢাবিতে তৃতীয়, ছাত্রজীবনেই বিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এবার বিসিএস জয়

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের খড়কাডাঙ্গা গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অধ্যবসায়, সততা ও মেধার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ শিক্ষাবিদ নাতিক মাহমুদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর ইংরেজি বিভাগের লেকচারার। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পরিবার, নিজ এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্বে পরিণত হয়েছেন।

তার বাবা আব্দুল মালেক খড়কাডাঙ্গা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং মা তানজিলা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মসজিদ মিশন একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে এসএসসি পাস করেন। পরে নিজের আগ্রহে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়ে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকেই অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে গড়ে তোলেন নিজের উজ্জ্বল একাডেমিক ভিত্তি।

তিনি জানান, শিক্ষকতা সবসময়ই ছিল তার স্বপ্নের পেশা। তাই অন্য কোনো চাকরির পরীক্ষায় তেমন অংশ নেননি। শিক্ষকতা কিংবা বিসিএস—এই দুইটিকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন। বর্তমানে বিইউবিটিতে শিক্ষকতা করতে পেরে তিনি আনন্দ অনুভব করেন। তবে তার ছোট চাচা, মা ও স্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অনুসরণ করেছেন নিজের আদর্শ। সমাজের প্রচলিত অনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে ছাত্রজীবনেই ২০২৪ সালে নিজের সহপাঠী ঈশিতা হককে বিয়ে করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার স্ত্রীও ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। আল্লাহর অশেষ রহমতে গত মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নিয়েছে এক পুত্রসন্তান। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সন্তান তাদের জীবনে আল্লাহর বিশেষ বরকত হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নাতিক মাহমুদ বলেন, তাকে কখনোই বেকার থাকতে হয়নি। ছাত্রজীবন থেকেই কর্মসংস্থানের বিষয়ে সচেতন ছিলেন। নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিসিএসেও সফলতা অর্জন করেছেন।

এই সাফল্যের পেছনে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, শ্বশুর-শাশুড়ি, শিক্ষক-গুরুজন এবং এলাকাবাসীর দোয়া ও ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন তার বাবা—একজন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, যার স্বপ্ন আজ সন্তানের সাফল্যের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

নিজ এলাকায় তিনি এখন গর্বের প্রতীক। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরাও তার এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবনে তার কিছু বড় স্বপ্ন রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যই মহান আল্লাহ তাকে এই পেশায় নিয়ে এসেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা করে যেতে চান।

সবশেষে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আল্লাহ যেন আমাকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ করে দেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন থেকে ৪৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া—নাতিক মাহমুদের এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, মেধা, পরিশ্রম, সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সাধারণ পরিবার থেকেও অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ