কৃষকের ছেলের স্বপ্নপূরণ: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন: কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সঠিক দিকনির্দেশনা একজন মানুষকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। এরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মো. আরিফুল ইসলাম। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি ৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিজ এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
আরিফুল ইসলামের বাড়ি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মাইনুল ইসলাম একজন পরিশ্রমী কৃষক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন ও নিজের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অধ্যবসায়ী। ২০১৩ সালে নরদাশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বাগমারা থেকে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে পানিয়া নরদাশ ডিগ্রি কলেজ, বাগমারা থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিসিএসে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে আরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর মামা ডা. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ৩৬তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন ডার্মাটোলজিস্ট, তাঁর মধ্যে বিসিএসের স্বপ্ন জাগিয়ে তোলেন। মামার উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা তাঁকে এই দীর্ঘ ও কঠিন পথচলায় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সেই অনুপ্রেরণাকেই পাথেয় করে ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
আরিফুল ইসলামের এই সাফল্যে তাঁর পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁর এই অর্জন রাজশাহীর বাগমারাসহ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিসিএসসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
৪৭তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় মো. আরিফুল ইসলামকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সবাই তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সফল কর্মজীবন কামনা করেছেন।