“দুই বিসিএসে নন-ক্যাডার, ব্যাংক চাকরি, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সহকারী পরিচালক পদ পেরিয়ে ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে জুয়েল মিয়ার স্বপ্নপূরণ; ৫০ তম বিসিএসের লিখিতেও সফল”
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
সাফল্য কখনো হঠাৎ করে আসে না; এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্যপানে অবিচল থাকার গল্প। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার কৃতী সন্তান জুয়েল মিয়া সেই অনুপ্রেরণারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যাংক চাকরিতে যোগদান, পরপর দুই বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ এবং শেষ পর্যন্ত ৪৬তম বিসিএসে জেনারেল এডুকেশন (শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি নিজের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জুয়েল মিয়ার জন্ম ১৯৯৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল গ্রামে।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা চরমরজাল উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর উত্তর বাখরনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৯ অর্জন করেন। পরে নরসিংদীর স্কলাস্টিকা মডেল কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ লাভ করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে। ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর ২০১৯ সালে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকেন জুয়েল মিয়া। ২০১৯ সালভিত্তিক ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় জেনারেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ৪১তম বিসিএসে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে নন-ক্যাডার এবং ৪৩তম বিসিএসেও নন-ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
তবে নন-ক্যাডারেই থেমে থাকেননি তিনি। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যোগ দেওয়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে আরও নিবিড় প্রস্তুতি চালিয়ে যান। তাঁর সেই নিরলস প্রচেষ্টার ফল আসে ৪৬তম বিসিএসে, যেখানে তিনি জেনারেল এডুকেশন (শিক্ষা) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেন।
বর্তমানে জুয়েল মিয়া বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে সহকারী পরিচালক (গবেষণা কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিজের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন এবং ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন।
জুয়েল মিয়ার এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সাময়িক ব্যর্থতা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পেলেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সফলতা ধরা দেয়। তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা বিসিএস ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক চাকরিপ্রত্যাশী হাজারো তরুণ-তরুণীর জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।