বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তাহিরপুরে ৩০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক। তাহিরপুরে মাঝির পাওনা না দিয়ে,মাঝিকে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি পুলিশের। তরুণদের দাবিগুলো সংসদ সদস্য এর কাছে তুলে দেওয়ার আশ্বাস নৌকায় জেলের বেশ, পকেটে ৪ হাজার ইয়াবা! নিশীথপুরের ছায়ামন্ত্রী দৈনিক সোনালী সময় সংবাদ প্রকাশের পর ঝমেলার পাশে জেলা প্রশাসক রাউজানে গর্জনীয়া রহমানিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী সফল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন  লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের উদ্যোগে শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে ১৩ জেলেসহ ফিশিং বোট উদ্ধার মাছের ক্যারেটে ২ লাখ ইয়াবা, পাচারকারী পালিয়েছে

তাহিরপুরে মাঝির পাওনা না দিয়ে,মাঝিকে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি পুলিশের।

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নৌকা ভাড়া বাবদ ৪৪ হাজার টাকা বকেয়া রাখার পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নিঃ) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় নৌকার মাঝি সুজাহর হোসেন তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, বকেয়া টাকা আদায় এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুজাহর হোসেন তাহিরপুর উপজেলার ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বিন্নারবন্দ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বড়ছড়া এলাকায় শ্রমিক সর্দার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ভাড়ায় নৌকা চালান। প্রায় তিন-চার মাস আগে এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে রফিকুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য তার একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা দৈনিক (দিন-রাত) ৪ হাজার টাকা ভাড়ায় নিতে চান। এতে রাজি হয়ে সুজাহর হোসেন নৌকাটি রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে রাতে দিনে পরিচালনা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রায় তিন মাস নৌকাটি ব্যবহারের পর ১৪ দিনের ভাড়া বাবদ মোট ৫৬ হাজার টাকা বকেয়া হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও আরও ৪৪ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে মাঝির। পাওনা টাকা চাইলে রফিকুল ইসলাম টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বড়ছড়া কয়লাঘাট এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সবুজ আলমের অফিসে সুজাহর হোসেনের বড় ভাই ইকবাল হোসেনকে ডেকে নিয়ে যান এসআই রফিকুল ইসলাম। সেখানে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয় উল্লেখ করে ইকবাল হোসেনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান তিনি।
একপর্যায়ে ইকবাল হোসেনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দুই বছর জেল খাটানোর হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না থাকায় তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে ইকবাল হোসেন মোবাইল ফোনে নবাব মিয়া ও হারুন মিয়াকে ঘটনাস্থলে ডাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সেখানে এসে নগদ ২০ হাজার টাকা রফিকুল ইসলামকে দেন।

সুজাহর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি আরও বলেন, গত শনিবার দুপুরে সরাসরি পুলিশ সুপার স্যারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ দিতে চাইলে পুলিশ সুপার বিষয়টি তাহিরপুর থানার ওসিকে দেখতে বলেছেন। ওসি স্যার ওসি তদন্তকে আগামী ৩/৪ তারিখ ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে বসে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ট্যাকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ছেলেটি আমাদের মাঝি ছিল। তাকে অনেক আগেই বিদায় করে দিয়েছি। দৈনিকের টাকা দৈনিকই দিয়ে দিয়েছি। বরং তার কাছে আমার আরও সাত হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।’ তাকে পুলিশ ক্যাম্পে এসে দেখা করতে বললেও সে এসে দেখা করছে না। কয়লার ডিপো অফিস থেকে বিশ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে বিষয়টি দেখে দিতে বলেছেন। সে টাকা পাওনা হলে অবশ্যই তাকে টাকা দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর