মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
/ ১৭
বার দেখা হয়েছে
আপডেট :
বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
শেয়ার করুন
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত সরকারি ভূমি দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত একটি বাড়ি উচ্ছেদ করে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বচিরা বাড়ি ফরেস্ট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি বন বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন। অভিযানে অবৈধভাবে দখল করা বনভূমির ওপর নির্মিত বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন দখলে থাকা সরকারি জায়গা উদ্ধার করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাঁশখালী থানা পুলিশ, চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছুড়ি ফরেস্ট এবং জলদী রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন। জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বন বিভাগের সংরক্ষিত প্রায় ২.৫ খানি বা ৫০ গন্ডা জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি বন্ধ করতে বন বিভাগ একাধিকবার নোটিশ প্রদানসহ মোট ৭ বার বাধা দেওয়া হয় এবং আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়। কিন্তু দখলদার কোনো নির্দেশনা মানেননি। তিনি আরও বলেন, “সব ধরনের সতর্কতা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধারকৃত বনভূমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।” অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানি আকন বলেন, “বাঁশখালী উপজেলার ১১ নম্বর পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসিরা বাড়ি ফরেস্ট এলাকায় প্রায় ১০০ শতাংশ সরকারি বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে একটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। বারবার নোটিশ ও সতর্কতা দেওয়া সত্ত্বেও দখলদার স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি।” তিনি আরও জানান, “সরকারি বনভূমি রক্ষা এবং জনস্বার্থে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বনভূমি দখল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখার দাবি জানান।