শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জনগণের দেওয়া কথা রেখেছেন ডিসি সায়েমুজ্জামান: পঞ্চগড়ে রেকর্ড ভোট ও মব সামলানোর নেপথ্য গল্প শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের রাশেদ ও শেরপুর-২ আসনে বিএনপির ফাহিম বিজয়ী পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদের জয়: তৃণমূলের নেতার ওপর জনগণের আস্থা বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়: দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে দলটি রুমার ১৯টি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিনের ভোট প্রদান ‎ চট্টগ্রাম-৯ আসনে জনরায় স্পষ্ট: ভবিষ্যৎ এমপি আবু সুফিয়ান অগ্রিম বিজয়ী অভিনন্দন: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে ভোটের আগের রাতেই কলঙ্কিত ত্রয়োদশ নির্বাচন: জামায়াতের তৎপরতায় গণতন্ত্র চরম হুমকিতে;

কারমাইকেল কলেজের সেই হারানো দিনগুলো

তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি / ২৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬

— তরিকুল ইসলাম

​সময় তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে আজ আমরা জীবনের মধ্যগগনে। কিন্তু মনের কোনো এক গহীন কোণে আজও অমলিন হয়ে আছে কারমাইকেল কলেজের সেই সবুজ চত্বর আর বন্ধুত্বের অমূল্য কিছু স্মৃতি। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে, অনার্স ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে আমরা যখন বাংলা বিভাগে ভর্তি হলাম, তখন জানতাম না এই ক্যাম্পাস আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

​আজ আমাদের বন্ধুদের একটি পুরনো গ্রুপ ছবি হাতে এল। ছবিটির দিকে তাকাতেই স্মৃতির জানলাগুলো এক এক করে খুলে গেল। ছবিতে আমরা কজন— জহুরুল, মাজেদ, শিউলি, শাহনাজ, সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, সেলী, মনি আর আমি (তরিকুল)। সেই দিনগুলোতে আমাদের কোনো ক্লান্তি ছিল না। ক্লাস শেষ হওয়া মাত্রই আমাদের গন্তব্য ছিল কলেজের চিরচেনা ‘বৃন্দাবন’। সেখানে বসে চলত অন্তহীন আড্ডা।

​আমাদের বন্ধুত্বের রসায়নটাও ছিল বেশ চমৎকার। শাহনাজ, শিউলি, মুক্তি আর মদিনা ছিল অভিন্ন হৃদয় বন্ধু; সারাক্ষণ তাদের একসাথেই দেখা যেত। অন্যদিকে সেলী আর মনি ছিল ছায়ার মতো একে অপরের সঙ্গী। আর জহুরুল, মাজেদ ও আমি— আমরা তো সবসময়ই এক সাথে চষে বেড়াতাম পুরো ক্যাম্পাস। সেই দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা।

​আজ বিশ বছর পর আমাদের জীবন একদম বদলে গেছে। সবাই এখন পেশাগত ও সাংসারিক ব্যস্ততায় নিমগ্ন। প্রিয় বন্ধু শাহনাজ এখন সুদূর আমেরিকায় প্রবাসী, তবে দূরত্ব বাড়লেও আমাদের প্রতি তার টান কমেনি। সে প্রতিনিয়ত সবার খোঁজখবর রাখে। সঞ্চিতা, মুক্তি, মদিনা, মনি আর জহুরুল মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। মাজেদ এখন উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করছে। শিউলি রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে কর্মরত, আর সেলী সামলাচ্ছে তার সংসার। আমি (তরিকুল) বর্তমানে এসএসএস নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছি।
​এখন আর আগের মতো সশরীরে দেখা হয় না। যান্ত্রিক জীবনে হাই-হ্যালো সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে অনলাইন গ্রুপে। কিন্তু যখনই পুরনো কোনো ছবি সামনে আসে, তখনই মনে পড়ে যায় কারমাইকেল কলেজের সেই সোনালী সময়গুলোর কথা। বুকের ভেতর এক অদ্ভুত হাহাকার জেগে ওঠে। মনে হয়, যদি আবার একবার সেই ২০ বছর আগে ফিরে যেতে পারতাম! বৃন্দাবনের সেই আড্ডার মেজাজ, সেই হাসি-ঠাট্টা আর সহজ-সরল বন্ধুত্বগুলোই আসলে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
​সময় হয়তো আমাদের অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে, কিন্তু কারমাইকেল কলেজের সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে। প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা যেখানেই থাকো— ভালো থেকো। আমাদের বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক হৃদয়ের গহীনে, চিরকাল…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর