দীক্ষানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী ও আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলন—দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ১ মিনিটে বাঁশখালী ঋষিধামে ধর্মীয় দীক্ষানুষ্ঠানের মাধ্যমে ১১ দিনব্যাপী এই মহাযজ্ঞের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আগত হাজারো সাধু-সন্ন্যাসী, ভক্ত ও অনুসারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আধ্যাত্মিক এই আয়োজন শেষ হয়।
এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) ভোর ৪টা ৩১ মিনিটে মঙ্গল আরতি ও জয়গানের মাধ্যমে মঙ্গল আহ্বানের মধ্য দিয়ে দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার সূচনা হয়। পরে সকাল ৭টা ১ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
মেলা চলাকালীন প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাধনা, প্রার্থনা, আশীর্বচন, আলোচনা সভা ও দীক্ষানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, ভক্ত, অনুসারী ও দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে বিরাজ করে এক আধ্যাত্মিক, শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ।
প্রতিদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান আশীর্বচন প্রদান করেন বাঁশখালী ঋষিধাম ও চট্টগ্রাম তুলসীধামের বর্তমান মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। সমাপনী দীক্ষানুষ্ঠানেও তাঁর পবিত্র আশীর্বচনে অংশগ্রহণকারীরা দীক্ষালাভ করেন।
দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট শ্রী অনুপম বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন শ্রী চন্দ্র শেখর মল্লিক। সহযোগী সংগঠন শ্রীগুরু সংঘের সভাপতি শ্রী চন্দন সিনহা, সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিমল কান্তি দেব ও অর্থ সম্পাদক শ্রী তড়িৎ কান্তি গুহ মেলার সার্বিক আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী দেবাশীষ পালিত, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্রী কাঞ্চন বিশ্বাস, মহিলা শাখার সভানেত্রী শ্রীমতি পান্না পালসহ অলোক দাশ, শ্রী প্রদীপ কান্তি গুহ, শ্রী ঝুন্টু কুমার দাশ ও দোলন দাশসহ উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা মেলার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ প্রসঙ্গে বাঁশখালী ঋষিধাম ও চট্টগ্রাম তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ বলেন,
“ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা অদ্বৈত দর্শন, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের মহাবার্তা বহন করে। এই মহাযজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বমানবতার শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনা করা হয়েছে।”
দীক্ষানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এই আধ্যাত্মিক মহাসম্মেলনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।