গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন লক্ষণদিয়া এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশীর জমিতে শুকনো পাতা কুড়াতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এতে বৃদ্ধা মোছা. আয়েত বানু (৬৫)সহ একই পরিবারের চারজন আহত হন।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষণদিয়া এলাকার মৃত আব্দুল আলিমের স্ত্রী আয়েত বানুর মেয়ে সালমা আক্তার লিপি (৩০) সকালে প্রতিবেশী জাকির হোসেনের জমিতে শুকনো পাতা কুড়াতে যান। এ সময় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মো. ইব্রাহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেন।
একপর্যায়ে বিবাদী সাকিব (২৫) ও খাদিজা (৪৫) লিপির কুড়ানো পাতাগুলো জোরপূর্বক সরিয়ে ফেলতে শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে আয়েত বানুর নাতি ইমন (১১) মারধরের শিকার হয়। পরে খবর পেয়ে লিপির বোন ও অপর নাতি তানজিদ (১৭) ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সন্তান ও নাতিদের রক্ষা করতে বৃদ্ধা আয়েত বানু এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করা হয়। পাশাপাশি শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে তার মেয়ের পরিহিত কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযোগ দায়ের করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী আয়েত বানু বলেন, “আমরা বিপদে পড়ে থানায় যাই। সেখানে সঠিক বিচার না পেলে আমরা কোথায় যাব?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিবাদীপক্ষের মামলা গ্রহণ করা হলেও তাদের পক্ষের মামলা গ্রহণে থানা কর্তৃপক্ষ অনীহা প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে পুবাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পাশাপাশি পুবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।