মোঃ সেলিম উদ্দীন
পুরোটা জীবন যেন এক দীর্ঘ প্রশ্নবোধক চিহ্ন, ঝুলে আছে অস্তিত্বের আকাশে, উত্তরহীন, তবু অবিরাম জিজ্ঞাসায় দীর্ণ।
পেছনে তাকালে দেখি পদচিহ্ন নয়, ভুলের স্তূপ, অর্ধেক বলা কথা, অসময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত, অকারণে হারানো মানুষ, অহংকারে পুড়ে যাওয়া সম্পর্ক।
সিদ্ধান্তগুলো ছিলো তাড়াহুড়োর সন্তান, চাওয়াগুলো ছিলো অন্ধ আকাঙ্ক্ষার জ্বর, উপলব্ধির বোধটাও ছিলো কুয়াশাচ্ছন্ন,
নিজের ভেতরের শূন্যতাকে আমি স্বপ্ন ভেবে জড়িয়ে ধরেছিলাম। অনেককে কষ্ট দিয়েছি, নিজেকেও।
অনেকবার সত্যকে পাশ কাটিয়ে স্বস্তির মিথ্যাকে বেছে নিয়েছি। যাকে ভালোবেসেছি, তাকে সন্দেহ করেছি; যে বিশ্বাস করেছে, তাকে অবহেলা করেছি।
আজ বুঝি, ভুল শুধু কাজের নয়, ভুল ছিলো দৃষ্টিরও। আমি পৃথিবীকে যেমন দেখেছি, পৃথিবী তেমন ছিলো না।
আমি মানুষকে যেমন ভেবেছি, মানুষ তেমন ছিলো না। সবচেয়ে বড় কথা, আমি নিজেকেও চিনিনি।
ভুল ভ্রান্তির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন এসে দাঁড়িয়েছি জীবনের শেষ প্রান্তে, কিছুটা নির্লিপ্ত, কিছুটা প্রশান্ত, এক ধরনের গভীর নীরবতা নিয়ে। অদ্ভুতভাবে এখন আর আক্ষেপ তেমন নেই।
কারণ বুঝেছি, ভুলগুলোই আমাকে ভেঙেছে, আর ভাঙনই আমাকে নম্র করেছে। যে অহংকার একদিন বুক ফুলিয়ে হাঁটত, আজ সে নত হয়ে গেছে সময়ের সামনে।
এখন অনন্তের পথে এগিয়ে যাই মহা আগ্রহে, ভয় কম, কৌতূহল বেশি। মৃত্যুকে আর শেষ মনে হয় না; মনে হয়, হয়তো এ জীবনের সব ভুলের এক চূড়ান্ত ব্যাখ্যা সেখানে অপেক্ষা করছে।
যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, “তোমার জীবনের সারাংশ কী?” আমি বলব, ভুলে ভরা এক দীর্ঘ যাত্রা, যার প্রতিটি ভুল আমাকে একটু একটু করে মানুষ বানিয়েছে।
আজ প্রশ্নবোধক চিহ্নের নিচে দাঁড়িয়ে আমি আর উত্তর খুঁজি না। শুধু মেনে নিই, ভুলই ছিলো আমার শিক্ষক, ভুলই ছিলো আমার পথ, ভুলের ভেতর দিয়েই আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।