স্টাফ রিপোর্টার :: শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ ও সাংবাদিকের ওপর হামলাকারী আসামিরা আবারও শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশের অভিযানে ২৯৭ পিস ইয়াবাসহ আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জামায়াত নেতা আব্দুল আহাদ (কুটন) বাহিনীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আনুমানিক বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের সময় এসআই (নিঃ) মোঃ আলিফ সঙ্গীয় ফোর্সসহ শাহপরান (রহ.) থানাধীন দলইপাড়া সাকিনস্থ উলনার মুখে আহাদের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়ি, যার রেজি. নং- ঢাকা মেট্রো ঠ-১৪-১২৭৫, সিগন্যাল দিয়ে থামিয়ে তল্লাশি করে ২৯৭ পিস ইয়াবাসহ ১। শহিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা- মোঃ ছামছু মিয়া, মাতা- মিহিরা খাতুন, ২। জাবেদ আহমদ (২৬), সাং- আলীবাগ, থানা- শাহপরান (রহ.), জেলা- সিলেট— তাদের আটক করে।
পরবর্তীতে আসামিদ্বয়কে সঙ্গীয় ফোর্সসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিদ্বয়ের ডাকচিৎকারে আশপাশে থাকা পলাতক আসামি ৩। আব্দুল আহাদ কুটন (৪০), ৪। এনাম (৩৫), উভয় পিতা- মুছাব্বির আলী, ৫। সাকিব (২৪), পিতা- শহিদুল ইসলাম, ৬। রেবুল (২৭), পিতা- আবুল মিয়া, সর্ব সাং- দলইপাড়া, ৭। রোমান আহমদ (২৬), পিতা- হোসেন মিয়া, সাং- দত্তগ্রাম, ৮। রাজিব আহমদ (৩৫), পিতা- আফরোজ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৩০/৩৫ জন আসামি বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে আইনানুগ গ্রেফতারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও হট্টগোল করে আটককৃত আসামিদ্বয়কে গাড়িসহ পালিয়ে যেতে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।
এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামিদের নিকট হতে জব্দকৃত ২৯৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং উল্লেখিত ঘটনার আলোকে শাহপরান (রহ.) থানার মামলা নং-৩০, তাং- ১৮/০৩/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর টেবিল ১০(ক)/৩৮ তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০ এর ১৪৩/১৮৬/২২৪/২২৫ রুজু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সকল পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে এসএমপি শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ করা আবশ্যক যে, এখানে উল্লেখিত যেসব আসামি রয়েছে, তারা বিগত ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া সুরমা গেইট বাজারে একজন সাংবাদিকের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদান করে। এ সময় ওই সাংবাদিকের দোকান লুটপাট, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং সাংবাদিকের ছোট দুই ভাইয়ের ওপর হামলা করে প্রাণনাশের চেষ্টা করেছিল।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে এসএমপি শাহপরান (রহ.) থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ওসি মনির হোসেনের মাথা ফাটাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে রক্তাক্ত জখম করে উক্ত আসামিরা।
এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট আইনে একটি মামলা দায়ের হয় শাহপরান (রহ.) থানায়। এদিকে ওই নির্যাতিত সাংবাদিকও তাদের বিরুদ্ধে মাননীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্যাতিত সাংবাদিক ফয়ছল কাদির বলেন, উক্ত মামলাগুলো এখন পর্যন্ত আদালতে চলমান রয়েছে।