রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলায় রোগীর জীবন সংকটাপন্ন । পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ বটলীফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স এসোসিয়েশনের দ্বি- বার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি। শেরপুরে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন। ইসির প্রোগ্রামে সাংবাদিকরা ‘আমন্ত্রিত নন’—ডিসির মন্তব্যে তোলপাড়। খুলনায় মফস্বল প্রেসক্লাবের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা এবং নতুন অফিস উদ্বোধন। যাদুকাটায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য: ভাঙনের মুখে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ। নীলফামারী বীজ উৎপাদন খামারে কৃষির অগ্রযাত্রা হয়রানিমুক্ত সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, নীলফামারী কারমাইকেলিয়ান বন্ধু আসাদের বাঁচার আকুতি: আপনার সামান্য সহযোগিতা ফিরিয়ে দিতে পারে একটি প্রাণ বাবা নামের ক’ল’ঙ্কি’ত পিতা সন্তানের লা’শ ফেলে বাড়ি থেকে পলায়ন!

যাদুকাটায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য: ভাঙনের মুখে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ।

সহকারী বার্তা সম্পাদক- ছাদেক আহমাদ। / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

যাদুকাটায় বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য: ভাঙনের মুখে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ।

বিশেষ প্রতিনিধি

অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল, ঝুঁকিতে লক্ষ কৃষকের একমাত্র ফসল
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মাহরাম ও শান্তিপুর এলাকায় আগাম পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে। এতে হাওর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের জন্য নদীর পাড় কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে নদীর তীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং হাওর রক্ষা বাঁধ ধ্বংসের আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এভাবে পাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভাটি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে বন্যা কিংবা আগাম পাহাড়ি ঢলের সময় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকাও চরম সংকটে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এই চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় পাতি নেতা এবং অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানাভাবে জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই নীরবতা এবং প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে হাওর রক্ষা বাঁধ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের অন্তর্গত প্রায় ৫১টি হাওরের কৃষিজমি মূলত একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। আর এই ফসল রক্ষায় হাওর রক্ষা বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে লক্ষাধিক কৃষকের বছরের একমাত্র ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষকে এই অনিয়ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারা মনে করেন, হাওর ও কৃষকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় অবিলম্বে যাদুকাটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাওর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষায়,
“হাওর আমাদের জীবন, আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এই হাওর ধ্বংস হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো অঞ্চলই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই এখনই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর