শেরপুর শহরের পাশেই ৩ যুগ ধরে কাঁচা সড়ক, দুর্ভোগে তালুকপাড়ার হাজারো মানুষ
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:শেরপুর শহরের একেবারে সন্নিকটে হয়েও দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে একটি চলাচল-উপযোগী সড়কের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের তালুকপাড়া গ্রামের মানুষ। ধোপাঘাট কড়ইগাছ থেকে তালুকপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি এখন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালুকপাড়া গ্রামে রয়েছে তিনটি মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামে কোনো মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শত শত শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শেরপুর শহরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, অটোরিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত সড়কটি ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা সড়কটি কাদায় পরিণত হয়। এর সঙ্গে মৃগী নদীর ভাঙনে সড়কটির বিভিন্ন অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চলাচল চরম দুর্ভোগে পরিণত হয়।
বিশেষ করে কৃষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। মাঠ থেকে ধান, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাড়িতে কিংবা বাজারে নেওয়ার সময় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়কের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যায়। অনেক সময় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের মাথায় বা বিকল্প উপায়ে পণ্য বহন করতে হয়।
স্থানীয়রা বলেন, তালুকপাড়া শহরের এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগ ব্যবস্থার এমন করুণ অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, তালুকপাড়ায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। তাই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে স্থায়ীভাবে পাকা করা হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
তালুকপাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ধোপাঘাট কড়ইগাছ থেকে তালুকপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার উদ্যোগ নেবেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য—একটি রাস্তা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি একটি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান প্রাণপ্রবাহ। তাই দীর্ঘ তিন যুগের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে তালুকপাড়ার মানুষের ন্যায্য দাবি পূরণ এখন সময়ের দাবি।