সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে এসে হাউসবোট থেকে পড়ে শিশু পর্যটক নিখোঁজের,৪২ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার। রূপগঞ্জে অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ তাহিরপুরে পানিতে পড়ে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ২০ ঘণ্টা পর উদ্ধার। । তাহিরপুর সীমান্ত থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিলসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ। মশিউর রহমান (মিল্টন) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত সংযোগ সড়কের অভাবে ঝিনাইগাতীর দিঘীরপাড়ের ৫০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ ছাতকে চা বিক্রেতার মেয়ে রুহি পেলো ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ রুপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নব গঠিত কমিটির (২০২৬) সভাপতি খলিল সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আলম হোসেন তাহিরপুরে পানিতে পড়ে মানসিক প্রতিবন্ধি কাশেম মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ। শ্রীবরদীতে সোপান যুব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, কোচিংও করেননি—দিনে চাকরি, রাতে পড়াশোনা; প্রথম চেষ্টাতেই ৪৬তম বিসিএসে আনসার ক্যাডার মুনএমের অনন্য সাফল্য

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন : / ১৩২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ হয়নি, কোচিংও করেননি—দিনে চাকরি, রাতে পড়াশোনা; প্রথম চেষ্টাতেই ৪৬তম বিসিএসে আনসার ক্যাডার মুনএমের অনন্য সাফল্য

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা আসবেই। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা থাকলে সেই বাধাই একসময় সাফল্যের সোপান হয়ে ওঠে। এই সত্যেরই উজ্জ্বল উদাহরণ মো. আ. মুনএম। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি, অল্প বয়সেই হারিয়েছেন বাবাকে, বিসিএস প্রস্তুতির জন্য কোনো কোচিংও করেননি। তবুও দিনে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন আর রাতে নিরলস অধ্যয়ন—এই কঠোর অধ্যবসায়ের ফলেই প্রথমবার ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আনসার ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
১৯৯৫ সালের ৩১ মে জন্মগ্রহণ করেন মো. আ. মুনএম। তাঁর বেড়ে ওঠা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বোয়ালিয়া থানার উপশহর এলাকায়। জীবনের শুরুতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবাকে হারান তিনি। পরিবারের সেই দুঃসময়ের মধ্যেও শিক্ষা ও স্বপ্নের পথ থেকে সরে যাননি।
ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন মেধাবী। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের পর রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে ২০১০ সালে এসএসসি এবং নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
তবে শিক্ষাজীবনের একটি বড় আক্ষেপ ছিল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পাওয়া। পরে তিনি রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, বিসিএস হয়তো তাঁর জন্য নয়। সেই আত্মসংশয় থেকেই ৪০তম বিসিএস থেকে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও তিনি অংশ নেননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নিজের সেই ভুল ধারণা ভেঙে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেন।
সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক বিষয় হলো, বিসিএস প্রস্তুতির জন্য তিনি কোনো কোচিংয়ের সহায়তা নেননি। বর্তমানে একটি স্বনামধন্য সফটওয়্যার কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত থেকে দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাত জেগে নিয়মিত পড়াশোনা করেছেন। চাকরি ও প্রস্তুতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে গড়ে তুলেছেন নিজের সাফল্যের গল্প।
অবশেষে প্রথমবার ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই আনসার ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রমাণ করেছেন—স্বপ্ন পূরণে প্রতিষ্ঠানের নাম নয়, নিজের প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে মো. আ. মুনএম বলেন, “শুরুটা যেখান থেকেই হোক না কেন, স্বপ্ন, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের দরজায় একদিন অবশ্যই পৌঁছানো যায়। তাই কখনো নিজের স্বপ্নকে ছোট করে দেখবেন না। শুধু পরিশ্রম করলেই বিসিএস ক্যাডার হওয়া যায় না; এর সঙ্গে প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহ প্রদত্ত রিযিকের সমন্বয়।”
মো. আ. মুনএমের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করা, আর্থিক বা পারিবারিক প্রতিকূলতা কিংবা কোচিং না করা—এসব কোনো কিছুই সাফল্যের পথে চূড়ান্ত বাধা নয়। আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পিত প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক সাফল্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অসংখ্য তরুণ-তরুণীর জন্য সাহস, আশা ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর