মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তাহিরপুরে জমি বিরোধে মামলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম। তাহিরপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, প্রেমিক পলাতক,বিয়ে না করলে আত্মহত্যা হুমকি। ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন হাওর পাড়ের শিক্ষার্থীদের কথা বললেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তাহিরপুরে নদী পথে বিআইডব্লিউটি ও টুল টেক্সের নামে অতিরিক্ত চাদাঁবাজি বন্ধের নির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক। যুক্তরাজ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজন ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি  সুনামগঞ্জে গুচ্ছগ্রামে ট্যাংকির ভেতর থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার,সন্দেহভাজন ৪ জন আটক। সুনামগঞ্জের শাল্লা থেকে বিট্রিশ আমলের লোহার পিলার(মেগনেট) উদ্ধার। মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বানারীপাড়ায় উত্তেজনা, থানার সামনে বিক্ষোভ

ঢাবিতে তৃতীয়, ছাত্রজীবনেই বিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এবার বিসিএস জয়

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি: / ১৩১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

ঢাবিতে তৃতীয়, ছাত্রজীবনেই বিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এবার বিসিএস জয়

মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের খড়কাডাঙ্গা গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অধ্যবসায়, সততা ও মেধার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ শিক্ষাবিদ নাতিক মাহমুদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর ইংরেজি বিভাগের লেকচারার। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পরিবার, নিজ এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্বে পরিণত হয়েছেন।

তার বাবা আব্দুল মালেক খড়কাডাঙ্গা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং মা তানজিলা বেগম একজন গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মসজিদ মিশন একাডেমি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে এসএসসি পাস করেন। পরে নিজের আগ্রহে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়ে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকেই অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে গড়ে তোলেন নিজের উজ্জ্বল একাডেমিক ভিত্তি।

তিনি জানান, শিক্ষকতা সবসময়ই ছিল তার স্বপ্নের পেশা। তাই অন্য কোনো চাকরির পরীক্ষায় তেমন অংশ নেননি। শিক্ষকতা কিংবা বিসিএস—এই দুইটিকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য হিসেবে দেখতেন। বর্তমানে বিইউবিটিতে শিক্ষকতা করতে পেরে তিনি আনন্দ অনুভব করেন। তবে তার ছোট চাচা, মা ও স্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অনুসরণ করেছেন নিজের আদর্শ। সমাজের প্রচলিত অনৈতিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকতে ছাত্রজীবনেই ২০২৪ সালে নিজের সহপাঠী ঈশিতা হককে বিয়ে করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার স্ত্রীও ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত। আল্লাহর অশেষ রহমতে গত মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নিয়েছে এক পুত্রসন্তান। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সন্তান তাদের জীবনে আল্লাহর বিশেষ বরকত হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নাতিক মাহমুদ বলেন, তাকে কখনোই বেকার থাকতে হয়নি। ছাত্রজীবন থেকেই কর্মসংস্থানের বিষয়ে সচেতন ছিলেন। নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বিসিএসেও সফলতা অর্জন করেছেন।

এই সাফল্যের পেছনে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, শ্বশুর-শাশুড়ি, শিক্ষক-গুরুজন এবং এলাকাবাসীর দোয়া ও ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হয়েছেন তার বাবা—একজন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, যার স্বপ্ন আজ সন্তানের সাফল্যের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

নিজ এলাকায় তিনি এখন গর্বের প্রতীক। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরাও তার এ অর্জনে আনন্দিত ও গর্বিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবনে তার কিছু বড় স্বপ্ন রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যই মহান আল্লাহ তাকে এই পেশায় নিয়ে এসেছেন। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের মানুষের সেবা করে যেতে চান।

সবশেষে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, “আল্লাহ যেন আমাকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ করে দেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন থেকে ৪৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া—নাতিক মাহমুদের এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, মেধা, পরিশ্রম, সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে সাধারণ পরিবার থেকেও অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর