রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুনামগঞ্জে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মাদক কারবারি মনু মিয়াসহ আটক ২ শিক্ষার গুণগত মানে এগিয়ে আরাজি রামকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঈদুল আযহার শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠার আহ্বান রাখাব উদ্দীনের নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মান্দা থানা এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের পৃথক দুটি অভিযান : খুলনায় র‌্যাব-৬ অভিযানে অস্ত্রসহ ৫ মামলার আসামি ইমনকে গ্রেফতার করেছে জৈষ্ঠ্যের মধুমাস শুরু: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে রসালো ফলের সমারোহ! স্বজন হারানো ও আহত পরিবারে অনুদান পৌঁছে দিল সাত্তার ফাউন্ডেশন চারঘাটে আম পাড়ার উদ্বোধন করলেন এমপি চাঁদ বড়শশী ইউনিয়নের জনদুর্ভোগের নাম ‘সরদার পাড়া-বালা পাড়া’ সড়ক: সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর মাদকাসক্ত, ছিনতাই, চুরি ও জুয়ার বিরুদ্ধে রাজশাহীতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

দানবাক্স নয়, মানুষের দানেই ৫ হাজারের তাবারুক—ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারে নতুন ইতিহাস

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ১১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সহিংসতা, মামলা-মোকদ্দমা ও দানবাক্সকেন্দ্রিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্তমান কমিটি।

এবার আর কোনো দানবাক্স নয়, রাস্তার কালেকশনও নয়—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয় প্রায় ৫ হাজার মানুষের তাবারুক। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মাজারকে কেন্দ্র করে অতীতে দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দীর্ঘস্থায়ী আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়।

বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়—মাজারে আর কোনো দানবাক্স থাকবে না। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই এবারের ওরশ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বৃহৎ তাবারুক বিতরণ।
এই আয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“দানবাক্সকে কেন্দ্র করেই এতদিন ঝগড়া-ফ্যাসাদ ছিল। এবার দানবাক্স ছাড়া আয়োজন করে প্রমাণ করা হয়েছে—ইমান ও বিশ্বাস টাকা দিয়ে নয়, মানুষের মন দিয়েই গড়ে ওঠে।”
বর্তমান কমিটির একজন সদস্য জানান,
“আমরা চেয়েছি মাজার যেন আর ব্যবসার জায়গা না হয়। স্বচ্ছতা থাকলে মানুষ এমনিতেই পাশে দাঁড়ায়—এই আয়োজন তার প্রমাণ।”

এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল আয়োজনই নয়, বরং ভবিষ্যতে মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধের পথও দেখিয়েছে। দানবাক্সবিহীন এই আয়োজন এখন বাঁশখালীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর