মোঃ সুজন আহাম্মেদ বিভাগীয় চিফ রাজশাহী
২২ অক্টোবর, ২০২৬ইং
অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে রাজশাহীর শাহমখসুম বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকায় তিনি পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন।
এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল থেকে তাকে বিমান বন্দরের উদ্দেশে নিয়ে যান পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন ।
এসময় এমপি মিলন গণমাধ্যমের কাছে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন ভূমি মন্ত্রী কয়েকদিন আগে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে যেসব ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ব্যবহারে সম্ভবত কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হওয়ার কারণে তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে গত কয়েকদিন ধরে তাকে রক্ত দিতে হচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, গত দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সফরে এসেছিলেন, যে কারণে অসুস্থতা সত্ত্বেও ভূমি মন্ত্রীকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়েছিল এবং এতে তার শারীরিক পরিশ্রমও হয়েছে। রাজশাহীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে নিয়মিত দেখছিলেন। পরবর্তীতে ডাক্তারদের পরামর্শেই তাকে এখন ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে তার চিকিৎসা চলবে।
রাজশাহীবাসী এবং দলের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ভূমি মন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শেফা কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন বলেন, মন্ত্রী মহোদয়কে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী থেকে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই তার চিকিৎসা করা হবে।
বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় পবা উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইবনুল আবেদীন সহ বিএনপির নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল থেকে হাসপাতালের কেবিনে তার চিকিৎসা চলছিল। রক্তশূন্যতা হওয়ায় তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, নিজের সুস্থতার জন্য রাজশাহীবাসীসহ সারা দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে এক নজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন। সবার কাছেই তিনি দোয়া কামনা করেন।