ফেনীর নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই একপাক্ষিক তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর ঘটনাকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সচেতন নাগরিকরা আইনের শাসন ও পেশাদারিত্বের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ওই আদেশের পর থেকেই একটি মহল পুরোনো কিছু ইস্যু ও তদন্তাধীন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের একজন কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে মো. মাহবুব আলম খান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া ২০১৬ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ থেকে ‘ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করা হলেও আইনজীবীরা বলছেন, তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা আইনসম্মত নয়। তাঁদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো এখনো তদন্তাধীন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে একজন কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফেনীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, নবনিযুক্ত এসপি মাহবুব আলম খান জেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করবেন।